ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়া প্রসঙ্গে

কাউন্সিল নাকি স্থায়ী কমিটির রেজ্যুলেশনে চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান

নিজস্ব সংবাদ :

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধাণমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করায় দলের শীর্ষ পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূণ্য হয়ে গিয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। দেশবাসী ইতোমধ্যে সেই শোকের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

ফলে এই বাস্তবতায় দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশের মতামত হলো সবার প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে দলের শূণ্য থাকা শীর্ষ পদে বসেন।

তবে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রমতে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু, আগামী নির্বাচনসহ সামগ্রিক দিক বিবেচনায় তারেক রহমান আরও কিছুদিন অপেক্ষা করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি তার মায়ের শোকের বিষয়ে সতর্ক বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।

দলের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সদস্যের মন্তব্য, ‘‘তারেক রহমান চেয়ারম্যান, এটা স্থায়ী কমিটিতে অটো হয়ে যাবে। এরজন্য আবার কাউন্সিলের প্রয়োজন কেন হবে। গঠনতন্ত্রে কোনও বাধা নেই। এটা জরুরিভাবে সে কারণে আমাদের মতামত আমরা কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাস করবো।’’

তারেক রহমানকে পর্যবেক্ষণ করেন এমন নেতা ও দায়িত্বশীলরা বলছেন, তারেক রহমান মূলত চাইছেন তৃণমূলের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হতে।

তারেক রহমানের আগে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া  ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে  বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা রাখেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সেই থেকে মৃত্যু অবধি তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আশির দশকের শুরু থেকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। ওই আন্দোলনেই মায়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন তারেক রহমান।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সূত্র জানায়, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে দলের গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন।  ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন— যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। বগুড়ায় সফল সম্মেলনের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেন।

২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি  বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে তারেক রহমানকে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেফতার হন এবং বিদেশে চিকিৎসা নিতে নির্বাসিত হন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন। এর আগে তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং  ২০১৮ সালে, যখন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি হন, তখন তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত করা হয়। তখন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, গঠনতন্ত্রে কোনও বিধি নিষেধ না থাকায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করতে মত দিয়েছেন। যদিও তিনি নিজে এখনই এই প্রস্তাবে কোনও সায় দেননি।

গঠনতন্ত্রের ৭ এর ‘গ’ উপধারার ২ নম্বরে এ বলা আছে, ‘‘চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন।’’

‘গ’ উপধারার নম্বর ৩-এ বলা হয়েছে, ‘‘যেকোনও কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণ মাধ্যমকে জানান , ‘‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোনদিন চেয়ারম্যান হবেন, ওইটা দলীয় সিদ্ধান্তের পর জানতে পারবো।’’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৫:৩১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
৬৬ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়া প্রসঙ্গে

কাউন্সিল নাকি স্থায়ী কমিটির রেজ্যুলেশনে চেয়ারম্যান হচ্ছেন তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৫:৩১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধাণমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করায় দলের শীর্ষ পদটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূণ্য হয়ে গিয়েছে। ইতোমধ্যে সরকার বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। দেশবাসী ইতোমধ্যে সেই শোকের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

ফলে এই বাস্তবতায় দলের স্থায়ী কমিটির অধিকাংশের মতামত হলো সবার প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে দলের শূণ্য থাকা শীর্ষ পদে বসেন।

তবে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রমতে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু, আগামী নির্বাচনসহ সামগ্রিক দিক বিবেচনায় তারেক রহমান আরও কিছুদিন অপেক্ষা করার পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি তার মায়ের শোকের বিষয়ে সতর্ক বলে দলীয় সুত্রে জানা গেছে।

দলের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সদস্যের মন্তব্য, ‘‘তারেক রহমান চেয়ারম্যান, এটা স্থায়ী কমিটিতে অটো হয়ে যাবে। এরজন্য আবার কাউন্সিলের প্রয়োজন কেন হবে। গঠনতন্ত্রে কোনও বাধা নেই। এটা জরুরিভাবে সে কারণে আমাদের মতামত আমরা কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাস করবো।’’

তারেক রহমানকে পর্যবেক্ষণ করেন এমন নেতা ও দায়িত্বশীলরা বলছেন, তারেক রহমান মূলত চাইছেন তৃণমূলের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হতে।

তারেক রহমানের আগে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া  ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে  বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা রাখেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সেই থেকে মৃত্যু অবধি তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আশির দশকের শুরু থেকে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন। ওই আন্দোলনেই মায়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হন তারেক রহমান।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সূত্র জানায়, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে দলের গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন।  ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন— যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। বগুড়ায় সফল সম্মেলনের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেন।

২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি  বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে তারেক রহমানকে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেফতার হন এবং বিদেশে চিকিৎসা নিতে নির্বাসিত হন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন। এর আগে তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং  ২০১৮ সালে, যখন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি হন, তখন তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত করা হয়। তখন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যুগপৎ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, গঠনতন্ত্রে কোনও বিধি নিষেধ না থাকায় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করতে মত দিয়েছেন। যদিও তিনি নিজে এখনই এই প্রস্তাবে কোনও সায় দেননি।

গঠনতন্ত্রের ৭ এর ‘গ’ উপধারার ২ নম্বরে এ বলা আছে, ‘‘চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন।’’

‘গ’ উপধারার নম্বর ৩-এ বলা হয়েছে, ‘‘যেকোনও কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণ মাধ্যমকে জানান , ‘‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোনদিন চেয়ারম্যান হবেন, ওইটা দলীয় সিদ্ধান্তের পর জানতে পারবো।’’


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481