মতলব উত্তরে লবাইরকান্দিতে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠিত
আমিনুল ইসলাম আল আমিন:-
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার লবাইরকান্দি, শিশিরকান্দিগ্রামে জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী, বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট ২০২৬), ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে লবাইরকান্দি গ্রামের কৃতি সন্তান ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী গোলাম মহিউদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতায় লবাইরকান্দি আল-আমিন আলিম মাদ্রাসা এবং খাজা গরীবে নেওয়াজ হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘সকল ঈদের সেরা ঈদ, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবীর র্যালিতে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি লবাইরকান্দি, মুন্সীকান্দি, শিকির কান্দি গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়।
নিউজ দিচ্ছি মতলব চাঁদপুর আল আমিন ।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সারা বাংলাদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ইসলামী বক্তা মাওলানা মোঃ বদরুজ্জামান বাহার। তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ, মানবতার প্রতি তাঁর শিক্ষা, শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।
প্রধান আলোচক মাওলানা মোঃ বদরুজ্জামান বাহার বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাই রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা অন্তরে ধারণ করার পাশাপাশি তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বাংলা, ভারত ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, চারতরিকায় পীরে কামেল, ওস্তাজুল ওলামা, মুফতিয়ে আজম, প্রিয় মুর্শিদ এবং বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা নায়েবে আ’লা হযরত আল্লামা আলহাজ্ব আবুল কাশেম রেজভী সুন্নী আল-কাদেরী (রহ.)-এর স্মরণে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা তাঁর ইসলামী শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং দ্বীন প্রচারে অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর মূল শিক্ষা হচ্ছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও ভালোবাসাকে জীবনের পথচলার অংশ করে নেওয়া। তাঁর দেখানো পথে চললে সমাজ থেকে অন্যায়, অশান্তি, হিংসা ও বিভেদ দূর করে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং মরহুম আল্লামা আলহাজ্ব আবুল কাশেম রেজভী সুন্নী আল-কাদেরী (রহ.)-এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
























