ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সচিবালয়ের সামনে মুখোমুখি ১১ দলীয় জোট ও পুলিশ

নিজস্ব সংবাদ :

সচিবালয় ঘেরাওয়ে ১১ দলীয় জোট, পুলিশের বাধায় উত্তেজনা
জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের বিল ও দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে কর্মসূচি; সচিবালয়ের সামনে বাকবিতণ্ডা, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
তেল-গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ শেষে সচিবালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে কর্মসূচি শেষ করে নেতাকর্মীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের উচ্চ বিল এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এসব সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হলে সচিবালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ সড়ক ছেড়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। নেতাকর্মীরা কিছু সময় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি এবং পরে মিছিলটি সেখান থেকে সরে যায়।
কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে তারা জনগণের দুর্ভোগের বিষয়গুলো তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ এবং জাগপার সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা।
কর্মসূচিকে ঘিরে সচিবালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সংকট ও জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

সচিবালয়ের সামনে মুখোমুখি ১১ দলীয় জোট ও পুলিশ

আপডেট সময় ০২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

সচিবালয় ঘেরাওয়ে ১১ দলীয় জোট, পুলিশের বাধায় উত্তেজনা
জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের বিল ও দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে কর্মসূচি; সচিবালয়ের সামনে বাকবিতণ্ডা, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
তেল-গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ শেষে সচিবালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে কর্মসূচি শেষ করে নেতাকর্মীরা এলাকা ত্যাগ করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের উচ্চ বিল এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এসব সংকট নিরসনে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা হলে সচিবালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ সড়ক ছেড়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। নেতাকর্মীরা কিছু সময় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি এবং পরে মিছিলটি সেখান থেকে সরে যায়।
কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে তারা জনগণের দুর্ভোগের বিষয়গুলো তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ এবং জাগপার সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারা।
কর্মসূচিকে ঘিরে সচিবালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি সংকট ও জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ারও আশঙ্কা রয়েছে।