ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি
সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি
নিউজ ডেস্ক
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে ডনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান ঢাকার আদালতে আশরাফুল হক ডনের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি শুনানির জন্য আগামী ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন শুনানি শেষে আদালত ডনকে তদন্ত সংস্থার হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
বিদেশযাত্রার সময় আটক
এর আগে গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে আশরাফুল হক ডনকে আটক করে অভিবাসন পুলিশ। তার বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিমানবন্দর থেকে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর ১২ আগস্ট ডনের জামিন আবেদন আদালতে নামঞ্জুর হয়। পরে তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে তদন্তকারী সংস্থা।
কেন রিমান্ড চাচ্ছে সিআইডি
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মামলাটির তদন্তে নতুন করে বিভিন্ন তথ্য ও নথি যাচাই করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ডনের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।
বিশেষ করে সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পনা বা সহযোগিতা ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয়ে তথ্য যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা আরও জানতে চান, বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ডন কীভাবে দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং এ ক্ষেত্রে কারও সহযোগিতা, প্ররোচনা বা অন্য কোনো ধরনের ভূমিকা ছিল কি না।
মামলায় নতুন করে তৎপরতা
সালমান শাহ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার অকালমৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে একাধিকবার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মামলাটি নিয়ে আবারও তদন্ত তৎপরতা বাড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের ভূমিকা সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা তদন্তে কাজে লাগতে পারে।
আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
এখন আগামী ২৭ আগস্টের শুনানির দিকে তাকিয়ে আছেন মামলার সংশ্লিষ্টরা। ওই দিন আদালতে সিআইডির রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হবে। শুনানি শেষে আদালত ডনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করবেন, নাকি অন্য কোনো আদেশ দেবেন—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তবে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার আগ পর্যন্ত ডনের বিরুদ্ধে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ বা তথ্যকে আদালতে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আদালতের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগোবে।
সালমান শাহ হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের রহস্য উদ্ঘাটনে ডনের জিজ্ঞাসাবাদ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনে, এখন সেটিই সংশ্লিষ্ট মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।



















