২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকে মাত্র ৬ ঘণ্টা, দুই মাসে ১৫ ট্রান্সফরমার চুরি, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগে দিশেহারা গ্রাহক মতলব উত্তরে তীব্র লোডশেডিং, গ্রাহকের ঘাড়ে ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল
২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকে মাত্র ৬ ঘণ্টা, দুই মাসে ১৫ ট্রান্সফরমার চুরি, অতিরিক্ত বিলের অভিযোগে দিশেহারা গ্রাহক
মতলব উত্তরে তীব্র লোডশেডিং, গ্রাহকের ঘাড়ে ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল
আমিনুল ইসলাম আল-আমিন:
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ের সঙ্গে গ্রাহকদের ঘাড়ে অস্বাভাবিক ও ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একদিকে প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা, অন্যদিকে মাস শেষে অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথাযথ মিটার রিডিং ছাড়াই মনগড়া বিল তৈরির অভিযোগও করেছেন তারা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, গ্রাহক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, সেই হিসাবেই বিল করা হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, বর্তমানে মতলব উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের আব্দুর রহমান বলেন, প্রতি মাসে আমার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার মতো আসত। কিন্তু জুলাই মাসে বিল এসেছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা। বিদ্যুৎই থাকে না, অথচ বিল বাড়ছে।
ছেংগারচর পৌর এলাকার আধুরভিটি গ্রামের সফিকুল ইসলাম বলেন, আগে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা বিল আসত। জুলাই মাসে বিল এসেছে সাড়ে ৯০০ টাকা। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ তো বাড়েনি, তাহলে বিল এত বাড়ল কেন এটাই বুঝতে পারছি না। ছেংগারচর বাজারের ব্যবসায়ী রাজন জানান, তার দোকানে প্রতি মাসে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত। গত মাসে বিল এসেছে প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা।
অন্যদিকে দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের ইমরান হোসেনের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে বজ্রপাতে তাদের বিদ্যুতের মিটার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসে জানানো হলেও এখনো মিটারটি ঠিক বা পরিবর্তন করা হয়নি। অথচ প্রতি মাসেই তাদের হাতে বিলের কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মিটারই যদি নষ্ট থাকে, তাহলে কীভাবে বিদ্যুৎ বিল করা হচ্ছে, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তাহীনতাও বেড়েছে। গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলায় প্রায় এক লাখ গ্রাহক নিয়মিত লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, অন্তত ১৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উপজেলা প্রশাসন, থানা, নৌ-পুলিশ ফাঁড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানেও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মতলব উত্তর জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার আবাসিক, ২০ হাজার বাণিজ্যিক এবং প্রায় ৪০০ শিল্প গ্রাহক রয়েছে।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মতলব উত্তর জোনাল অফিসের এজিএম মো. নাঈম বলেন, চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। এই মুহূর্তে মতলবের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৭ মেগাওয়াট। কিন্তু আমরা পাচ্ছি ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক আসার কোনো সুযোগ নেই। গ্রাহক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, সেই হিসাবেই বিদ্যুৎ বিল আসে।
























