আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আদর্শ জাতি: সেনাপ্রধান
আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বয়েই গড়ে উঠবে আদর্শ জাতি: সেনাপ্রধান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আধুনিক শিক্ষা ও ইসলামি মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নৈতিক, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, একপাক্ষিক শিক্ষাব্যবস্থা নয়, বরং আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বিত চর্চাই একটি আদর্শ, সুশৃঙ্খল ও মানবিক জাতি গঠনের ভিত্তি হতে পারে।
বুধবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন এলাকায় নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও কয়েকটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও উদ্বোধন করা হয়।
সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান সময়ের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নয়। আবার ইসলামি শিক্ষার কিছু প্রতিষ্ঠানে আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভাষা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। এই দুই ধারার ইতিবাচক দিককে একত্রিত করে যুগোপযোগী ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি শিক্ষা। আজকের শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পারলে আগামী প্রজন্ম দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও মর্যাদার আসনে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি চরিত্র গঠন ও দেশপ্রেমের শিক্ষাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, নবপ্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট আন্তর্জাতিক মানের পাঠক্রম অনুসরণ করবে। এখানে আধুনিক শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামি আদর্শ, নৈতিক শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সমন্বিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সৎ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত এ উদ্যোগ দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে এবং জাতীয় উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।










