ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউনূস-আসিফসহ ২৭ জনের আবেদন খারিজ

নিজস্ব সংবাদ :

ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ, পর্যাপ্ত উপাদান পায়নি আদালত
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা বাদীপক্ষের জবানবন্দি গ্রহণের পর মামলার আবেদনটি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে আদালত জানান, মামলা গ্রহণের মতো পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনটি খারিজ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
মামলার আবেদন করেন তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামের এক নারী। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত, উসকানি ও সহযোগিতায় বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে হামলায় অংশ নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শন, দলিলপত্র, বই এবং মূল্যবান সামগ্রী নষ্ট ও লুট করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবনটি ভাঙার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং রাতভর চলা ওই কার্যক্রম পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, ড. রেজওয়ানা হাসান, শফিকুল আলম, লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, আক্তার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সার্জিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব ও সালেহ উদ্দিন সিফাতের নাম উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরোয়ার, নুরনবী (অব. কর্নেল), তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন ও ফাহিম আল চৌধুরী এবং আবুল কালাম আজাদের নামও আসামির তালিকায় রাখা হয়। একই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা ছাড়াও বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গ্রহণের আবেদন করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়।
তবে আদালতে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও আবেদন পর্যালোচনার পর বিচারক মামলাটি আমলে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত উপাদান পাননি বলে সিদ্ধান্ত দেন। ফলে বহুল আলোচিত এই ঘটনায় করা মামলার আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অভিযোগগুলো এখনো বিচারিক মামলার পর্যায়ে গড়ায়নি। ফলে আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে আদালতের চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলার আবেদন খারিজের বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আলোচিত এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৫:০২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

ইউনূস-আসিফসহ ২৭ জনের আবেদন খারিজ

আপডেট সময় ০৫:০২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ, পর্যাপ্ত উপাদান পায়নি আদালত
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা বাদীপক্ষের জবানবন্দি গ্রহণের পর মামলার আবেদনটি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে আদালত জানান, মামলা গ্রহণের মতো পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনটি খারিজ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
মামলার আবেদন করেন তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামের এক নারী। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বাদীপক্ষের দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত, উসকানি ও সহযোগিতায় বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে হামলায় অংশ নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শন, দলিলপত্র, বই এবং মূল্যবান সামগ্রী নষ্ট ও লুট করা হয়। পরবর্তী সময়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবনটি ভাঙার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং রাতভর চলা ওই কার্যক্রম পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ড. আসিফ নজরুল, ড. রেজওয়ানা হাসান, শফিকুল আলম, লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, আক্তার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সার্জিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব ও সালেহ উদ্দিন সিফাতের নাম উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসেন, কনক সরোয়ার, নুরনবী (অব. কর্নেল), তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন ও ফাহিম আল চৌধুরী এবং আবুল কালাম আজাদের নামও আসামির তালিকায় রাখা হয়। একই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করার আবেদন করা হয়েছিল।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা ছাড়াও বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গ্রহণের আবেদন করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়।
তবে আদালতে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও আবেদন পর্যালোচনার পর বিচারক মামলাটি আমলে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত উপাদান পাননি বলে সিদ্ধান্ত দেন। ফলে বহুল আলোচিত এই ঘটনায় করা মামলার আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে অভিযোগগুলো এখনো বিচারিক মামলার পর্যায়ে গড়ায়নি। ফলে আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে আদালতের চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলার আবেদন খারিজের বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আলোচিত এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।