ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফখরুলের কান্নায় ভারী সভাকক্ষ, আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :

বিদায়ের মঞ্চে অশ্রুসিক্ত মির্জা ফখরুল, আবেগে ভারী হয়ে উঠল সংসদীয় দলের বৈঠক
জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক যেন একসময় পরিণত হয় আবেগঘন এক বিদায়ক্ষণে। সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার থেকে পাঁচবার তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এটিই সংসদীয় দলের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের শেষ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনায় পুরো পরিবেশে ছিল আলাদা আবেগ।
বক্তব্যের শুরুতেই মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিএনপিতে দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফখরুল জানান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তার এই বক্তব্যেও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা তিনি জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না বলেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন তিনি বলেন, বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সংসদীয় দলের সহকর্মীদের তিনি মিস করবেন। এ সময় দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুলের কান্নাভেজা বক্তব্যে সভাকক্ষের পরিবেশও ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের মধ্যে তিনি একাধিকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার আবেগ স্পর্শ করে উপস্থিত অন্য নেতাদেরও। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি দলের কঠিন সময়ে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে ফখরুল দলের হাল ধরেছেন এবং কখনো হাল ছাড়েননি; এ সময় তাকে কারাবন্দীও হতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা এবং রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সংসদীয় দলের এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আবেগেরও এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য বিদায়ের সময়ে মির্জা ফখরুলের অশ্রুসিক্ত বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ার ঘটনায় বৈঠকের পরিবেশ হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০১:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

ফখরুলের কান্নায় ভারী সভাকক্ষ, আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বিদায়ের মঞ্চে অশ্রুসিক্ত মির্জা ফখরুল, আবেগে ভারী হয়ে উঠল সংসদীয় দলের বৈঠক
জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক যেন একসময় পরিণত হয় আবেগঘন এক বিদায়ক্ষণে। সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েক মিনিটের বক্তব্যে চার থেকে পাঁচবার তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এটিই সংসদীয় দলের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের শেষ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনায় পুরো পরিবেশে ছিল আলাদা আবেগ।
বক্তব্যের শুরুতেই মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিএনপিতে দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফখরুল জানান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ে তার কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তার এই বক্তব্যেও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা তিনি জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না বলেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন তিনি বলেন, বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সংসদীয় দলের সহকর্মীদের তিনি মিস করবেন। এ সময় দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুলের কান্নাভেজা বক্তব্যে সভাকক্ষের পরিবেশও ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের মধ্যে তিনি একাধিকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার আবেগ স্পর্শ করে উপস্থিত অন্য নেতাদেরও। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি দলের কঠিন সময়ে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে ফখরুল দলের হাল ধরেছেন এবং কখনো হাল ছাড়েননি; এ সময় তাকে কারাবন্দীও হতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা এবং রাষ্ট্রের সর্বত্র জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সংসদীয় দলের এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আবেগেরও এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে সম্ভাব্য বিদায়ের সময়ে মির্জা ফখরুলের অশ্রুসিক্ত বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ার ঘটনায় বৈঠকের পরিবেশ হয়ে ওঠে স্মরণীয়।