স্বাধীনতার নামে অধিকার হরণ নয়
স্বাধীনতা ভোগের নামে অন্যের অধিকার হরণ নয়—জনসেবায় প্রশাসনকে আরও জবাবদিহির আহ্বান গয়েশ্বরের
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। তবে নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে অন্যের স্বাধীনতা ও অধিকার হরণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন এবং জিআর প্রকল্পের চেক ও গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা সবাই স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। তবে নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে গিয়ে যেন অন্যের স্বাধীনতা হরণ না করি।’ তার বক্তব্যে নাগরিক অধিকার, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় সেবার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জনগণের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের করের অর্থ থেকেই রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। ফলে জনগণ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা পায়, সেটি নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জনগণ প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পায়নি। তার দাবি, সাধারণ মানুষ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জনগণের সেবা, জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তার বক্তব্যে সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়টিও উঠে আসে।
তিনি জানান, সীমিত পরিসরে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি মন্দির ও গির্জার ধর্মীয় সেবকদের সম্মানি ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও মানুষকে এসব সুবিধার আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ শিবলিজ্জামান, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. আব্দুল গনি, বিএনপি নেতা ওমর শাহনেওয়াজ, মো. আশরাফ হোসেন, মো. আজাদ হোসেন, যুবদল নেতা আবু জাহিদ মামুনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন এবং চেক ও গাছের চারা বিতরণের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা ও সামাজিক সহায়তার বিষয়টিও সামনে আসে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—স্বাধীনতার সুফল কেবল ব্যক্তিগত অধিকার ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজনের স্বাধীনতা যেন অন্য নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রশাসনকে জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে এবং সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।






















