ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দূষণকারীদের বিচারের দাবি

নদী বাঁচানোর দাবিতে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ

ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর ভয়াবহ দূষণের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা। বুধবার বিকেলে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা শিল্পবর্জ্যের মাধ্যমে নদী ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানান এবং দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুলজোড় নদী বর্তমানে মারাত্মক দূষণের কবলে পড়ে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে এসআর কেমিক্যালস ও মজুমদার প্রোডাক্টসসহ কয়েকটি শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বক্তারা জানান, গত ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাসায়নিক দূষণের কারণে নদীতে ব্যাপক হারে মাছ, সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। এতে নদী তীরবর্তী লাখো মানুষের কৃষি ও মৎস্যনির্ভর জীবিকা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

‘নদী একটি জীবন্ত সত্তা’

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা ২০১৯ সালের হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বক্তারা বলেন, আদালত নদীকে “জীবন্ত সত্তা” ঘোষণা করলেও বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। শিল্পবর্জ্যের মাধ্যমে একটি নদীকে ধ্বংস করা মানে একটি জীবন্ত সত্তাকে হত্যা করার শামিল।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ডাকসুর সাবেক সদস্য হেমা চাকমা, সর্বমিত্র চাকমা, উমামা ফাতেমা এবং কবি সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ সম্পাদক মোছা. রুকু খাতুনসহ বিভিন্ন ছাত্রনেতা।

হয়রানি ও মামলার প্রতিবাদ

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, নদী রক্ষায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করায় পরিবেশকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। শেরপুর থানায় পরিবেশকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং তৌহিদুর রহমান ও শিক্ষক আলী রেজা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তারা অবিলম্বে এসব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ফয়সাল বিশ্বাস

নদী রক্ষার দাবিতে সিরাজগঞ্জের তরুণ পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস গত ছয় দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি বলেন,
“নদী আমাদের জীবনপ্রবাহ। নদী নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এবং দূষণকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

প্রধান দাবিগুলো

সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন—

ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর দূষণ রোধে জরুরি তদন্ত কমিটি গঠন

দায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ

পরিবেশকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধ

হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা

সমাবেশ শেষে পরিবেশকর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই আন্দোলন দেশব্যাপী আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
১৪ বার পড়া হয়েছে

দূষণকারীদের বিচারের দাবি

নদী বাঁচানোর দাবিতে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর ভয়াবহ দূষণের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা। বুধবার বিকেলে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা শিল্পবর্জ্যের মাধ্যমে নদী ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানান এবং দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুলজোড় নদী বর্তমানে মারাত্মক দূষণের কবলে পড়ে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে এসআর কেমিক্যালস ও মজুমদার প্রোডাক্টসসহ কয়েকটি শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে নদীর পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বক্তারা জানান, গত ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি রাসায়নিক দূষণের কারণে নদীতে ব্যাপক হারে মাছ, সাপ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটে। এতে নদী তীরবর্তী লাখো মানুষের কৃষি ও মৎস্যনির্ভর জীবিকা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

‘নদী একটি জীবন্ত সত্তা’

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা ২০১৯ সালের হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বক্তারা বলেন, আদালত নদীকে “জীবন্ত সত্তা” ঘোষণা করলেও বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। শিল্পবর্জ্যের মাধ্যমে একটি নদীকে ধ্বংস করা মানে একটি জীবন্ত সত্তাকে হত্যা করার শামিল।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ডাকসুর সাবেক সদস্য হেমা চাকমা, সর্বমিত্র চাকমা, উমামা ফাতেমা এবং কবি সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ সম্পাদক মোছা. রুকু খাতুনসহ বিভিন্ন ছাত্রনেতা।

হয়রানি ও মামলার প্রতিবাদ

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, নদী রক্ষায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করায় পরিবেশকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। শেরপুর থানায় পরিবেশকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং তৌহিদুর রহমান ও শিক্ষক আলী রেজা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তারা অবিলম্বে এসব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ফয়সাল বিশ্বাস

নদী রক্ষার দাবিতে সিরাজগঞ্জের তরুণ পরিবেশকর্মী ফয়সাল বিশ্বাস গত ছয় দিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি বলেন,
“নদী আমাদের জীবনপ্রবাহ। নদী নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এবং দূষণকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

প্রধান দাবিগুলো

সমাবেশ থেকে আন্দোলনকারীরা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন—

ফুলজোড় ও করতোয়া নদীর দূষণ রোধে জরুরি তদন্ত কমিটি গঠন

দায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ

পরিবেশকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধ

হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা

সমাবেশ শেষে পরিবেশকর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই আন্দোলন দেশব্যাপী আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481