মোদির বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে মন্ত্রী বানানোর অভিযোগ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে নারী সংসদ সদস্যদের মন্ত্রিত্ব দেওয়ার অভিযোগ এনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী কিছু নারী সংসদ সদস্যকে শারীরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে মন্ত্রী করেছেন। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আরও চাঞ্চল্যকর হয়ে ওঠে, যখন হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে স্বামীর বক্তব্যকে সমর্থন জানান। একসময় মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কিশওয়ারের এমন অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কিশওয়ার তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্করের নাম ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকেও নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এখন পর্যন্ত স্বামী বা কিশওয়ার কেউই তাদের দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কিংবা ক্ষমতাসীন দল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক কৌশলের অংশ—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।



















