ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লন্ডন–ঢাকা রুটে বিমানের কার্গো আয় ধস

নিজস্ব সংবাদ :

লন্ডন–ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর লাভজনক কার্গো ব্যবসা এখন প্রায় পুরোপুরি বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে চলে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলাদেশি মালিকানাধীন কার্গো এজেন্টের চুক্তি বাতিল করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে জেএমজি কার্গো প্রতিষ্ঠানটি বিমানের সঙ্গে সফলভাবে কাজ করছিল। কিন্তু ২০২০ সালে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির কার্গো সেলস এজেন্ট (সিএসএ) চুক্তি বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই লন্ডন–ঢাকা রুটে বিমানের কার্গো আয় দ্রুত কমে যায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে এ রুটে বিমানের কার্গো আয় ছিল প্রায় ৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তবে চুক্তি বাতিলের পর ২০২০–২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকায়।

বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম এক সভায় এই রাজস্ব ক্ষতির জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের তিরস্কার করেন এবং জেএমজি কার্গোকে দ্রুত পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।

তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন লন্ডন অফিসের কান্ট্রি ম্যানেজার হারুন খানসহ একটি প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিমানের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে এ সিদ্ধান্তের কারণে সংস্থাটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকার বেশি।

জেএমজি কার্গোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদ বলেন, “আমাদের অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার ফলে প্রবাসীরা এখন বিদেশি এয়ারলাইন্স ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিচার চাইছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিমানের লন্ডনের বর্তমান কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ সুলাইমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
৫৮ বার পড়া হয়েছে

লন্ডন–ঢাকা রুটে বিমানের কার্গো আয় ধস

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

লন্ডন–ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর লাভজনক কার্গো ব্যবসা এখন প্রায় পুরোপুরি বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে চলে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলাদেশি মালিকানাধীন কার্গো এজেন্টের চুক্তি বাতিল করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯ সাল থেকে জেএমজি কার্গো প্রতিষ্ঠানটি বিমানের সঙ্গে সফলভাবে কাজ করছিল। কিন্তু ২০২০ সালে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির কার্গো সেলস এজেন্ট (সিএসএ) চুক্তি বাতিল করা হয়। এর পর থেকেই লন্ডন–ঢাকা রুটে বিমানের কার্গো আয় দ্রুত কমে যায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে এ রুটে বিমানের কার্গো আয় ছিল প্রায় ৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তবে চুক্তি বাতিলের পর ২০২০–২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকায়।

বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আজিম এক সভায় এই রাজস্ব ক্ষতির জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের তিরস্কার করেন এবং জেএমজি কার্গোকে দ্রুত পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।

তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন লন্ডন অফিসের কান্ট্রি ম্যানেজার হারুন খানসহ একটি প্রভাবশালী মহলের প্ররোচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিমানের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে এ সিদ্ধান্তের কারণে সংস্থাটির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকার বেশি।

জেএমজি কার্গোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনির আহমেদ বলেন, “আমাদের অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ার ফলে প্রবাসীরা এখন বিদেশি এয়ারলাইন্স ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দেশের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিচার চাইছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিমানের লন্ডনের বর্তমান কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াদ সুলাইমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।