বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসায় সুখবর
বাংলাদেশিদের জন্য বড় স্বস্তি, ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের মার্কিন নীতি আদালতে বাতিল
নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেওয়া নীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে দেশটির ফেডারেল আদালত। শুক্রবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতিকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করে বাতিল করে দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে ভিসার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
কী ছিল বিতর্কিত নীতি?
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু কার্যত স্থগিত করে। নীতিটি ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি ছিল—নির্দিষ্ট কিছু দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। তাই ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত যাচাই-বাছাইয়ের নীতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, ভারতীয় উপমহাদেশের কয়েকটি দেশসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ক্যারিবীয়, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এই তালিকায় ছিল। তবে শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল যে এই স্থগিতাদেশ মূলত অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; পর্যটন ভিসাসহ অ-অভিবাসী ভিসা এর আওতায় পড়েনি।
কেন আদালতে চ্যালেঞ্জ?
নীতিটি কার্যকর হওয়ার পর অভিবাসী অধিকার সংগঠন, ভিসা আবেদনকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কিছু নাগরিক আদালতের দ্বারস্থ হন। তাদের অভিযোগ ছিল, শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা আটকে দেওয়া বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বৈষম্যমূলক।
মামলার শুনানিতে আদালত নীতিটির আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিচারক ভার্গাসের মতে, জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে অভিবাসী ভিসা বন্ধ করার মতো বিস্তৃত ক্ষমতা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হাতে নেই। Reuters-এর প্রতিবেদনে আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের জন্য বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের রায়ে কী বলা হয়েছে?
বিচারক ভার্গাস মনে করেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের নেওয়া নীতিটি মার্কিন অভিবাসন আইনে কংগ্রেসের নির্ধারিত ভিসা ব্যবস্থাকে কার্যত পাশ কাটিয়ে গেছে। অর্থাৎ, কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ব্যাপকভাবে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে প্রশাসন যে ক্ষমতার ওপর নির্ভর করেছে, আদালতের দৃষ্টিতে সেটি আইনগত সীমা অতিক্রম করেছে।
এর ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখার নীতির বৈধতা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশিদের জন্য এর গুরুত্ব কোথায়?
বাংলাদেশ এই ৭৫ দেশের তালিকায় থাকায় দেশটির নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। নতুন আদালতের রায় সেই অনিশ্চয়তা কাটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অভিবাসী ভিসার আবেদন করেছিলেন কিংবা আবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আদালতের রায়ের পরই সব আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়ে যাবে—এমনটি বলা যাচ্ছে না।
কারণ, এখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর রায়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করবে এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো কীভাবে পুনরায় প্রক্রিয়াকরণ করবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বস্তি এলেও অপেক্ষা করতে হবে
আদালতের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশিদের জন্য ইতিবাচক খবর হিসেবে দেখা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। কারণ, রায়ের পর মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ, সম্ভাব্য আপিল এবং ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
এদিকে রায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে যে বিষয়টি স্পষ্ট
পুরো ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি ‘বাংলাদেশিদের জন্য সব মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে’—এমন কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বরং ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করার নির্দিষ্ট নীতিকে আদালত বাতিল করেছে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সুবিধা তৈরি হয়েছে অভিবাসী ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে। পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষার্থী বা অন্যান্য অ-অভিবাসী ভিসার বিষয়টি এই আদালতের রায়ের সঙ্গে সরাসরি এক নয়।
ফলে এখন বাংলাদেশি আবেদনকারীদের নজর থাকবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা ও আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর। দীর্ঘদিনের স্থগিতাবস্থা কাটিয়ে নিয়মিত অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।



















