সরকারি কোষাগারে ফেরত ১ কোটি ৩৬ লাখ
খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সাশ্রয়, ইওনো সবিতা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের টাকা পুরোপুরি খরচ করাই যেন অনেক সময় নিয়মে পরিণত হয়েছে। সেই প্রচলিত ধারণার বিপরীতে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার। দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে কাজ শেষে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ডুমুরিয়া উপজেলায় দুটি খালে কাজ চলছিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহযোগিতা করেন। কাজের বাস্তব অগ্রগতি ও প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশেষ করে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর–নিমতলা খালের ক্ষেত্রে প্রকল্পের নির্ধারিত ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার খনন করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, অতিবৃষ্টি এবং মাটির প্রকৃতিগত সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো অংশের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
এখানেই সামনে এসেছে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক—যে অর্থ বাস্তবে ব্যয় হয়নি, সেটি ফেরত দেওয়া। প্রকল্পের নামে বরাদ্দ পাওয়া টাকা কোনোভাবেই অতিরিক্ত ব্যয় বা কৃত্রিমভাবে খরচ দেখানোর পরিবর্তে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, এই টাকা কীভাবে সাশ্রয় হলো?
একটি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ কম খরচ হওয়া মানেই কাজের মান খারাপ—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং প্রকল্পের বাস্তবতা, কাজের পরিমাণ, মাটি ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে বরাদ্দের হিসাব মিলিয়ে দেখা জরুরি।
ডুমুরিয়ার ঘটনায়ও প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত কাজের একটি অংশ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সাশ্রয়ী প্রশাসনের বার্তা
সরকারি অর্থ জনগণের অর্থ। উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতিটি টাকা সঠিকভাবে ব্যয় করা যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব, তেমনি অপ্রয়োজনীয় বা অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়াও জবাবদিহিতার অংশ।
ডুমুরিয়ার ইউএনওর উদ্যোগ তাই শুধু একটি প্রকল্পের টাকা ফেরতের ঘটনা নয়; এটি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি বার্তা হিসেবেও আলোচনায় এসেছে।
তবে প্রকল্পের পুরো চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট দুই প্রকল্পের অনুমোদিত বরাদ্দ, প্রকৃত ব্যয়, কাজের পরিমাণ, মাটি উত্তোলনের হিসাব এবং অব্যয়িত অর্থ ফেরতের সরকারি নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসব তথ্য প্রকাশ্যে এলে বোঝা যাবে—কোথায় কত টাকা সাশ্রয় হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ ব্যবস্থাপনা কতটা কার্যকর ছিল।
সরকারি অর্থ ফেরত দেওয়ার এই দৃষ্টান্ত প্রশাসনের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পেও ব্যয়-সাশ্রয় ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।



















