ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালিতে হত্যাকান্ড বাবা-মেয়ে-স্ত্রীর মরদেহ আসছে দেশে

নিজস্ব সংবাদ :

রোমের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: শুক্রবার দেশে ফিরছে একই পরিবারের তিন মরদেহ, শেষবারের মতো বাবুল-স্ত্রী-কন্যাকে একসঙ্গে দাফন
নোয়াখালী প্রতিনিধি
ইতালির রাজধানী রোমে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির মরদেহ আগামী শুক্রবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা, উৎকণ্ঠা আর শোকের পর প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে একই স্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিয়েছে পরিবার।
নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের একমাত্র ছেলে অয়ন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন মরদেহের সঙ্গে অয়নও শুক্রবার দেশে ফিরবেন এবং বাবা-মা ও বোনের জানাজা ও দাফনে অংশ নেবেন।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিহতদের নিজ বাড়ির পাশে শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হবে।
রোম থেকে নোয়াখালী—শেষবারের মতো আপন ঠিকানায়
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইতালির স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়া এলাকায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে। সেখান থেকে মরদেহ নোয়াখালীতে নেওয়া হবে। বিকেল থেকে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো তাদের দেখার সুযোগ পাবেন। রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হবে দাফন।
এক পরিবারের তিন সদস্যকে একসঙ্গে হারানোর ঘটনায় চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
যে রাতে থেমে যায় একটি পরিবারের হাসি
গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাবুল, তার স্ত্রী ও পাঁচ বছরের কন্যা আরিশা।
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এক মুহূর্তের ভয়াবহ ঘটনায় একটি পরিবারের তিনটি প্রাণ ঝরে যায়। আর গুরুতর আহত অয়ন হারায় তার বাবা, মা ও ছোট বোনকে।
‘আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, আমি বিচার চাই’
নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম ছেলেকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ। তিনি জানিয়েছেন, দেশে ছুটিতে এসে বাবুল নিজেই পারিবারিক কবরস্থানে মাটি ফেলেছিলেন। এখন সেই কবরস্থানেই স্ত্রী ও সন্তানসহ তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে—এ বাস্তবতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হবে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু কাউকে বোঝাতে পারছি না। আমি বিচার চাই। কবে পাব বিচার, তার হিসাব জানি না।’
বাবার এমন আকুতি ছুঁয়ে যাচ্ছে স্বজন ও এলাকাবাসীর হৃদয়।
আগেই কি ছিল কোনো হুমকি?
ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে এক বছর আগের একটি কথিত হুমকির ঘটনা।
পারিবারিক সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের রেখে যাওয়া একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। ওই চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
দাবি পূরণ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও স্বজনেরা দাবি করেন।
পরে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম নিরাপত্তাশঙ্কার কথা উল্লেখ করে কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
এই পুরোনো হুমকির সঙ্গে রোমের হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও এখন পরিবারের কাছে বড় প্রশ্ন। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
তদন্তে ইতালিয়ান পুলিশ
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতালির পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিহতের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। তার ভাষ্য, বাবুল দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন।
তিনি বলেন, এমন নির্মম ঘটনায় তারা বাকরুদ্ধ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিবারের পক্ষ থেকে যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই শাহাদাত এখনো আইনের আওতায় না আসায় তারা বিস্মিত।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কিংবা কারও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
একসঙ্গে ফিরবে তিন মরদেহ, অপেক্ষায় পুরো গ্রাম
প্রবাসে গিয়ে পরিবারকে ভালো রাখার স্বপ্ন ছিল বাবুলের। কিন্তু সেই প্রবাসই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তার জীবন, স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়েকে।
শুক্রবার যখন তিনটি মরদেহ নোয়াখালীর মাটিতে পৌঁছাবে, তখন সেখানে অপেক্ষা করবে স্বজনদের কান্না, প্রতিবেশীদের ভিড় আর অসংখ্য মানুষের শেষ শ্রদ্ধা।
একই পরিবারের তিনজন মানুষ—বাবা, মা ও পাঁচ বছরের শিশু কন্যা—একসঙ্গে ফিরবেন, তবে জীবিত নয়। ফিরবেন কফিনবন্দি হয়ে।
চরকাঁকড়ার মানুষ এখন একটাই দাবি করছেন—এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হোক, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিহত পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
শুক্রবারের জানাজা শুধু একটি পরিবারের তিন সদস্যের বিদায় হবে না; এটি হবে প্রবাসে থাকা অসংখ্য বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিও স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এক বেদনাবিধুর মুহূর্ত।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০২:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

ইতালিতে হত্যাকান্ড বাবা-মেয়ে-স্ত্রীর মরদেহ আসছে দেশে

আপডেট সময় ০২:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

রোমের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: শুক্রবার দেশে ফিরছে একই পরিবারের তিন মরদেহ, শেষবারের মতো বাবুল-স্ত্রী-কন্যাকে একসঙ্গে দাফন
নোয়াখালী প্রতিনিধি
ইতালির রাজধানী রোমে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার নোয়াখালীর একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির মরদেহ আগামী শুক্রবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা, উৎকণ্ঠা আর শোকের পর প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে একই স্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিয়েছে পরিবার।
নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের একমাত্র ছেলে অয়ন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন মরদেহের সঙ্গে অয়নও শুক্রবার দেশে ফিরবেন এবং বাবা-মা ও বোনের জানাজা ও দাফনে অংশ নেবেন।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নিহতদের নিজ বাড়ির পাশে শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হবে।
রোম থেকে নোয়াখালী—শেষবারের মতো আপন ঠিকানায়
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইতালির স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়া এলাকায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার মরদেহ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার সকালে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে। সেখান থেকে মরদেহ নোয়াখালীতে নেওয়া হবে। বিকেল থেকে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো তাদের দেখার সুযোগ পাবেন। রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হবে দাফন।
এক পরিবারের তিন সদস্যকে একসঙ্গে হারানোর ঘটনায় চরকাঁকড়া ইউনিয়নে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
যে রাতে থেমে যায় একটি পরিবারের হাসি
গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে নিহত হন বাবুল, তার স্ত্রী ও পাঁচ বছরের কন্যা আরিশা।
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এক মুহূর্তের ভয়াবহ ঘটনায় একটি পরিবারের তিনটি প্রাণ ঝরে যায়। আর গুরুতর আহত অয়ন হারায় তার বাবা, মা ও ছোট বোনকে।
‘আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, আমি বিচার চাই’
নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম ছেলেকে হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ। তিনি জানিয়েছেন, দেশে ছুটিতে এসে বাবুল নিজেই পারিবারিক কবরস্থানে মাটি ফেলেছিলেন। এখন সেই কবরস্থানেই স্ত্রী ও সন্তানসহ তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে—এ বাস্তবতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হবে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, কিন্তু কাউকে বোঝাতে পারছি না। আমি বিচার চাই। কবে পাব বিচার, তার হিসাব জানি না।’
বাবার এমন আকুতি ছুঁয়ে যাচ্ছে স্বজন ও এলাকাবাসীর হৃদয়।
আগেই কি ছিল কোনো হুমকি?
ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে এক বছর আগের একটি কথিত হুমকির ঘটনা।
পারিবারিক সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের রেখে যাওয়া একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। ওই চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
দাবি পূরণ না করলে পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও স্বজনেরা দাবি করেন।
পরে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম নিরাপত্তাশঙ্কার কথা উল্লেখ করে কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
এই পুরোনো হুমকির সঙ্গে রোমের হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও এখন পরিবারের কাছে বড় প্রশ্ন। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
তদন্তে ইতালিয়ান পুলিশ
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতালির পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিহতের চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট ইউনুস বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। তার ভাষ্য, বাবুল দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন।
তিনি বলেন, এমন নির্মম ঘটনায় তারা বাকরুদ্ধ। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিবারের পক্ষ থেকে যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেই শাহাদাত এখনো আইনের আওতায় না আসায় তারা বিস্মিত।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কিংবা কারও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
একসঙ্গে ফিরবে তিন মরদেহ, অপেক্ষায় পুরো গ্রাম
প্রবাসে গিয়ে পরিবারকে ভালো রাখার স্বপ্ন ছিল বাবুলের। কিন্তু সেই প্রবাসই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তার জীবন, স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়েকে।
শুক্রবার যখন তিনটি মরদেহ নোয়াখালীর মাটিতে পৌঁছাবে, তখন সেখানে অপেক্ষা করবে স্বজনদের কান্না, প্রতিবেশীদের ভিড় আর অসংখ্য মানুষের শেষ শ্রদ্ধা।
একই পরিবারের তিনজন মানুষ—বাবা, মা ও পাঁচ বছরের শিশু কন্যা—একসঙ্গে ফিরবেন, তবে জীবিত নয়। ফিরবেন কফিনবন্দি হয়ে।
চরকাঁকড়ার মানুষ এখন একটাই দাবি করছেন—এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হোক, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিহত পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
শুক্রবারের জানাজা শুধু একটি পরিবারের তিন সদস্যের বিদায় হবে না; এটি হবে প্রবাসে থাকা অসংখ্য বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিও স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এক বেদনাবিধুর মুহূর্ত।