ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস

খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

নিজস্ব সংবাদ :

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। উল্লেখ্য বেগম খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকি’সাধীন ছিলেন।

মঙ্গলবার দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি একজন মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। তার মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপসহীন নেতৃত্ব গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতিকে বারবার মুক্তির পথ দেখিয়েছে।

শোকবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব ও দৃঢ় মনোবল দেশের রাজনীতিতে দিকনির্দেশক হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন।

তিনি স্মরণ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে এসে খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখে এবং দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতন ঘটাতে সহায়ক হয়।
ড. ইউনূস বলেন, খালেদা জিয়ার নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সফল। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে একাধিক আসন থেকে বিজয়ী হন এবং ২০০৮ সালেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলেন।
শোকবার্তায় বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক প্রতীক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছিল, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, দলের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার অনুরোধ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১২:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
১২২ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস

খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

আপডেট সময় ১২:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। উল্লেখ্য বেগম খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকি’সাধীন ছিলেন।

মঙ্গলবার দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি একজন মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। তার মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আপসহীন নেতৃত্ব গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতিকে বারবার মুক্তির পথ দেখিয়েছে।

শোকবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব ও দৃঢ় মনোবল দেশের রাজনীতিতে দিকনির্দেশক হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন।

তিনি স্মরণ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে এসে খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখে এবং দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতন ঘটাতে সহায়ক হয়।
ড. ইউনূস বলেন, খালেদা জিয়ার নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সফল। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে একাধিক আসন থেকে বিজয়ী হন এবং ২০০৮ সালেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলেন।
শোকবার্তায় বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক প্রতীক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছিল, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, দলের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার অনুরোধ করেন।