ঢাকা ১১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আটক করা যাবে না, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :

কারিগরি ত্রুটিতে তীব্র গ্যাস সংকট: রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভোগান্তি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা
দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্রহণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ কেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ তিতাস গ্যাসের আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকার শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।
রোববার (২৬ জুলাই) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ অনেক কমে গেছে এবং কোথাও কোথাও সরবরাহ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিল্পখাতে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমিয়ে আনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহে বিলম্ব এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
অন্যদিকে, আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগও বেড়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যায় রান্নার সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং সিএনজি স্টেশনগুলোও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ার কারণে টার্মিনাল বা সরবরাহ ব্যবস্থার যেকোনো কারিগরি ত্রুটি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে সংকট সৃষ্টি করে। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সমস্যা সমাধান হলে ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, কারিগরি সমস্যা সম্পূর্ণ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কিছু এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ অব্যাহত থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলমান রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০২:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আটক করা যাবে না, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কারিগরি ত্রুটিতে তীব্র গ্যাস সংকট: রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভোগান্তি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা
দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) গ্রহণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ কেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ তিতাস গ্যাসের আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকার শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।
রোববার (২৬ জুলাই) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ অনেক কমে গেছে এবং কোথাও কোথাও সরবরাহ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিল্পখাতে। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমিয়ে আনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহে বিলম্ব এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।
অন্যদিকে, আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগও বেড়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যায় রান্নার সময় চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পরিবারকে বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং সিএনজি স্টেশনগুলোও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ার কারণে টার্মিনাল বা সরবরাহ ব্যবস্থার যেকোনো কারিগরি ত্রুটি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে সংকট সৃষ্টি করে। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে প্রকৌশলীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সমস্যা সমাধান হলে ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
সাময়িক এ ভোগান্তির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, কারিগরি সমস্যা সম্পূর্ণ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কিছু এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ অব্যাহত থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলমান রয়েছে।