গাজার ধ্বংসস্তূপে মিলল ১১২ মরদেহ, শোকে স্তব্ধ ফিলিস্তিন
গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ১১২ মরদেহ, শোকে স্তব্ধ ফিলিস্তিন
গাজার সাবরা এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে একসঙ্গে ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মানুষ ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন। ভবন ধসে পড়ার পর তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় এতদিন তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক এলাকার পাশে রাখা হয়। পরে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শোকাহত স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এরপর মরদেহগুলো গাজা নগরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।
উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা জানান, কয়েক দিনের টানা অভিযান চালিয়ে ভারী কংক্রিট ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু, নারী, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো শেষ হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, একই এলাকার ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক নিখোঁজ মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখনো অন্তত ১৫৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটের মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষের মরদেহ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একসঙ্গে ১১২ জনের জানাজা গাজার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় শোকাবহ ঘটনা। এই ঘটনা আবারও যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক মূল্য এবং গাজার চলমান সংকটকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজদের স্বজনরা অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।














