বাবার সম্পত্তিতেও কর! বাজেটে আসছে বড় চমক
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাব অনুযায়ী, নিকট ও দূরবর্তী আত্মীয়ভেদে ভিন্ন হারে এই কর ধার্য হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের ওপর।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাধিকার কর আইন প্রণয়ন ও এর প্রভাব মূল্যায়নের জন্য গঠিত ছয় সদস্যের একটি কমিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উন্নত দেশের আদলে সম্পদের পরিমাণ ও সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। নিকটাত্মীয়—যেমন বাবা-মা বা ভাইবোনের কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পদের ক্ষেত্রে ১ থেকে ৫ শতাংশ এবং দূরবর্তী আত্মীয়—যেমন দাদা-দাদি, নানা-নানি বা শ্বশুর-শাশুড়ির ক্ষেত্রে ৩ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এক কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর নিকটাত্মীয়ের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ কর প্রযোজ্য হতে পারে, যা ধাপে ধাপে বেড়ে ১১ কোটি টাকার বেশি সম্পদের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশে পৌঁছাবে। অন্যদিকে একই পরিমাণ সম্পদের ক্ষেত্রে দূরবর্তী আত্মীয়ের জন্য করহার ৩ শতাংশ থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই কর চালু করা গেলে আয়কর আদায় ১ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা অর্থমূল্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ। তবে এজন্য বিদ্যমান আইন সংশোধন ও কিছু ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক আইন বাতিলের প্রয়োজন হবে।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উত্তরাধিকার কর আরোপ একটি স্পর্শকাতর বিষয়। ফলে এ বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আগামী বাজেটে এই আইন প্রস্তাব আনা হতে পারে।
বর্তমানে আয়কর আইনে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ব্যবসার ওপর কর নির্ধারণের বিধান থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর সরাসরি কর আরোপের বিধান নেই। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ব্যক্তি পর্যায়ে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ওপরও কর দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের কর চালু হলে রাজস্ব আহরণ বাড়ার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে করহার ও স্ল্যাব যুক্তিসংগত না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।



















