ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগের ৪৮ ঘণ্টা পর বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব সংবাদ :

পদত্যাগের দুই দিন পর বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন, শেষ হলো রাষ্ট্রপতির অধ্যায়
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে তিনি রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার দায়িত্ব পালন এবং বঙ্গভবনে অবস্থানের আনুষ্ঠানিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সরকারি বাসভবন ছাড়ার এই প্রক্রিয়া প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও তিনি প্রায় তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন করেন। পদত্যাগের মাধ্যমে তার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং পরবর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংবিধাননির্ধারিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে শপথ গ্রহণ, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ, আইন অনুমোদন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক কার্যক্রমে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্বকাল দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘটনার সাক্ষীও ছিল।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো ধরনের সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ত্যাগ রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও সাংবিধানিক রীতিনীতিরই অংশ। দায়িত্ব হস্তান্তর, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কার্যক্রম শুরু এবং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এদিকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং বঙ্গভবন ত্যাগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব হস্তান্তর এবং সরকারি বাসভবন ত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবিধানিক বিধান মেনে এ ধরনের পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৩:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
৫ বার পড়া হয়েছে

পদত্যাগের ৪৮ ঘণ্টা পর বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৩:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পদত্যাগের দুই দিন পর বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন, শেষ হলো রাষ্ট্রপতির অধ্যায়
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের দুই দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে তিনি রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার দায়িত্ব পালন এবং বঙ্গভবনে অবস্থানের আনুষ্ঠানিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর সরকারি বাসভবন ছাড়ার এই প্রক্রিয়া প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও তিনি প্রায় তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন করেন। পদত্যাগের মাধ্যমে তার রাষ্ট্রপতির দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং পরবর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংবিধাননির্ধারিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয় দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, বিভিন্ন সাংবিধানিক পদে শপথ গ্রহণ, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ, আইন অনুমোদন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক কার্যক্রমে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্বকাল দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘটনার সাক্ষীও ছিল।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো ধরনের সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ত্যাগ রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও সাংবিধানিক রীতিনীতিরই অংশ। দায়িত্ব হস্তান্তর, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কার্যক্রম শুরু এবং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এদিকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং বঙ্গভবন ত্যাগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব হস্তান্তর এবং সরকারি বাসভবন ত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবিধানিক বিধান মেনে এ ধরনের পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।