ঢাকা ০৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইফোন কিনতে বাবা সন্তান ‘বিক্রি’র করেন

নিজস্ব সংবাদ :

এক লাখ টাকায় দেড় বছরের শিশু ‘হস্তান্তর’! পুরোনো আইফোন কেনার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
দশমিনায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—শিশুকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান, তদন্তে উঠছে নানা প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দেড় বছরের এক শিশুকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে বাবা একটি পুরোনো আইফোন কিনেছেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়িতে ঘটনাটি ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শিশুটির নাম মুসা। তার বাবা মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি শিশুটিকে ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে হস্তান্তর করেছেন।
তবে অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা এবং শিশুটিকে হস্তান্তরের প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন। এ ঘটনায় শিশুটির মা, দাদি এবং বাবার বক্তব্যের পাশাপাশি শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাবা বাজারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হন
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভারের বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে মুসা নামের এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে প্রায় এক মাস আগে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে মুসা দাদির কাছেই থাকছিল।
পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে মারুফ বাড়িতে আসেন। পরদিন সকালে তিনি মুসাকে গোসল করিয়ে নতুন জামা-প্যান্ট পরিয়ে দিতে দাদিকে বলেন। এরপর শিশুটিকে বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। শুরু হয় শিশুটির খোঁজ।
ঢাকায় গিয়ে মিলল ভিন্ন তথ্য
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, মারুফ ঢাকায় তার মামার বাসায় অবস্থান করছেন। পরে তার মামা বাহাদুর মিয়া বিষয়টি জানতে চাইলে মারুফের কাছ থেকে শিশুটিকে অন্যের কাছে দেওয়ার কথা জানতে পারেন বলে পরিবারের দাবি।
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের অভিযোগ, ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে লিখিতভাবে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে মারুফ একটি পুরোনো আইফোন কিনেছেন।
এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা অবশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিশুটিকে নেওয়ার কথা স্বীকার ইমরানের
অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শিশুটিকে নিজের কাছে নেওয়ার বিষয়টি ইমরান হোসেন স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
ইমরানের দাবি, তার শ্বশুরের পাঁচজন মেয়ে রয়েছে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। বিষয়টি নিয়ে শ্বশুরের সঙ্গে আলোচনা করার পর মারুফের কাছ থেকে লিখিতভাবে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছে।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন—একজন বাবা কি কেবল ব্যক্তিগত সমঝোতা ও অর্থের বিনিময়ে নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে অন্যের কাছে তুলে দিতে পারেন?
শিশুর অভিভাবকত্ব, হেফাজত, দত্তক বা অন্য কোনো বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
‘লিখিত কাগজ’ থাকলেই কি শিশুকে হস্তান্তর বৈধ?
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই লিখিত কাগজের প্রকৃতি কী, কার সামনে সেটি করা হয়েছে, সেখানে কী শর্ত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিশেষ করে শিশুটি যখন মাত্র দেড় বছরের, তখন তার নিরাপত্তা, আইনগত অভিভাবকত্ব এবং সর্বোত্তম স্বার্থই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া প্রয়োজন।
বাবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে শিশুটিকে কেন এবং কী পরিস্থিতিতে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তার বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হতে পারে।
পুলিশের তৎপরতা শুরু
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটিকে বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর পুরো বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের এই বক্তব্যের পর এখন মূল প্রশ্ন—শিশুটি কোথায় রয়েছে, সে নিরাপদে আছে কি না এবং তাকে কীভাবে ও কোন পরিস্থিতিতে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি
ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের বিরোধের বিষয় নয়; এর সঙ্গে একটি শিশুর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই তদন্তে অন্তত কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি—
শিশুটিকে বর্তমানে কে এবং কোথায় রেখেছে?
এক লাখ টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না?
কথিত লিখিত কাগজটি কী ধরনের এবং তার আইনগত ভিত্তি কী?
শিশুটিকে নেওয়ার সময় তার মায়ের সম্মতি ছিল কি না?
শিশুটিকে অন্যের কাছে দেওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী?
টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কী?
শিশুটিকে কোনো অবৈধভাবে স্থানান্তর বা পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল কি না?
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো অপরাধের উপাদান পাওয়া যায় কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হতে পারে।
শিশুটির নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ঘটনার অভিযোগ সত্য হোক বা তদন্তে ভিন্ন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসুক—দেড় বছরের একটি শিশুকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। শিশুটিকে দ্রুত নিরাপদে উদ্ধার করা, তার শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার আইনগত অভিভাবকত্বের বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া কাউকে ‘শিশু বিক্রেতা’ বা ‘পাচারকারী’ হিসেবে চিহ্নিত না করে পুলিশের তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাও প্রয়োজন।
এখন দেখার বিষয়, শিশুটিকে কোথা থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তদন্তে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুকে হস্তান্তরের অভিযোগের কতটা সত্যতা পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্তই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

আইফোন কিনতে বাবা সন্তান ‘বিক্রি’র করেন

আপডেট সময় ০৭:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

এক লাখ টাকায় দেড় বছরের শিশু ‘হস্তান্তর’! পুরোনো আইফোন কেনার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
দশমিনায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ—শিশুকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান, তদন্তে উঠছে নানা প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় দেড় বছরের এক শিশুকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া অর্থের একটি অংশ দিয়ে বাবা একটি পুরোনো আইফোন কিনেছেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়িতে ঘটনাটি ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শিশুটির নাম মুসা। তার বাবা মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি শিশুটিকে ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে হস্তান্তর করেছেন।
তবে অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা এবং শিশুটিকে হস্তান্তরের প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো তদন্তাধীন। এ ঘটনায় শিশুটির মা, দাদি এবং বাবার বক্তব্যের পাশাপাশি শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাবা বাজারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হন
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভারের বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে মুসা নামের এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে প্রায় এক মাস আগে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে মুসা দাদির কাছেই থাকছিল।
পরিবারের অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে মারুফ বাড়িতে আসেন। পরদিন সকালে তিনি মুসাকে গোসল করিয়ে নতুন জামা-প্যান্ট পরিয়ে দিতে দাদিকে বলেন। এরপর শিশুটিকে বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। শুরু হয় শিশুটির খোঁজ।
ঢাকায় গিয়ে মিলল ভিন্ন তথ্য
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, মারুফ ঢাকায় তার মামার বাসায় অবস্থান করছেন। পরে তার মামা বাহাদুর মিয়া বিষয়টি জানতে চাইলে মারুফের কাছ থেকে শিশুটিকে অন্যের কাছে দেওয়ার কথা জানতে পারেন বলে পরিবারের দাবি।
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের অভিযোগ, ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে লিখিতভাবে এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে মারুফ একটি পুরোনো আইফোন কিনেছেন।
এই অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা অবশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শিশুটিকে নেওয়ার কথা স্বীকার ইমরানের
অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শিশুটিকে নিজের কাছে নেওয়ার বিষয়টি ইমরান হোসেন স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
ইমরানের দাবি, তার শ্বশুরের পাঁচজন মেয়ে রয়েছে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। বিষয়টি নিয়ে শ্বশুরের সঙ্গে আলোচনা করার পর মারুফের কাছ থেকে লিখিতভাবে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছে।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন—একজন বাবা কি কেবল ব্যক্তিগত সমঝোতা ও অর্থের বিনিময়ে নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে অন্যের কাছে তুলে দিতে পারেন?
শিশুর অভিভাবকত্ব, হেফাজত, দত্তক বা অন্য কোনো বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
‘লিখিত কাগজ’ থাকলেই কি শিশুকে হস্তান্তর বৈধ?
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিতভাবে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই লিখিত কাগজের প্রকৃতি কী, কার সামনে সেটি করা হয়েছে, সেখানে কী শর্ত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিশেষ করে শিশুটি যখন মাত্র দেড় বছরের, তখন তার নিরাপত্তা, আইনগত অভিভাবকত্ব এবং সর্বোত্তম স্বার্থই তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া প্রয়োজন।
বাবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
মারুফ মুন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে শিশুটিকে কেন এবং কী পরিস্থিতিতে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তার বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হতে পারে।
পুলিশের তৎপরতা শুরু
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটিকে বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। শিশুটিকে উদ্ধারের পর পুরো বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের এই বক্তব্যের পর এখন মূল প্রশ্ন—শিশুটি কোথায় রয়েছে, সে নিরাপদে আছে কি না এবং তাকে কীভাবে ও কোন পরিস্থিতিতে অন্যের কাছে দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি
ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের বিরোধের বিষয় নয়; এর সঙ্গে একটি শিশুর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই তদন্তে অন্তত কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি—
শিশুটিকে বর্তমানে কে এবং কোথায় রেখেছে?
এক লাখ টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না?
কথিত লিখিত কাগজটি কী ধরনের এবং তার আইনগত ভিত্তি কী?
শিশুটিকে নেওয়ার সময় তার মায়ের সম্মতি ছিল কি না?
শিশুটিকে অন্যের কাছে দেওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী?
টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কী?
শিশুটিকে কোনো অবৈধভাবে স্থানান্তর বা পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল কি না?
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো অপরাধের উপাদান পাওয়া যায় কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হতে পারে।
শিশুটির নিরাপত্তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ঘটনার অভিযোগ সত্য হোক বা তদন্তে ভিন্ন কোনো তথ্য বেরিয়ে আসুক—দেড় বছরের একটি শিশুকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। শিশুটিকে দ্রুত নিরাপদে উদ্ধার করা, তার শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার আইনগত অভিভাবকত্বের বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া কাউকে ‘শিশু বিক্রেতা’ বা ‘পাচারকারী’ হিসেবে চিহ্নিত না করে পুলিশের তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাও প্রয়োজন।
এখন দেখার বিষয়, শিশুটিকে কোথা থেকে উদ্ধার করা হয় এবং তদন্তে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুকে হস্তান্তরের অভিযোগের কতটা সত্যতা পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্তই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করবে।