ফ্রি সিমের প্রলোভনে প্রতারণা
ঠাকুরগাঁওয়ে এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন
বিনামূল্যে সিম ও রিচার্জের প্রলোভন দেখিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে গোপনে একাধিক সিম নিবন্ধনের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে আইনি জটিলতায় ফেলছে তারা। এতে বহু পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা, মোহাম্মদপুর ও চিলারং ইউনিয়নের সহজ-সরল গ্রামবাসী—বিশেষ করে নারী ও বয়স্কদের লক্ষ্য করে দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছে একটি চক্র।
চক্রটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিনিময়ে বিনামূল্যে একটি সিম এবং সঙ্গে ১০৫ টাকা রিচার্জের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, একটি সিম দেওয়ার কথা বললেও গ্রাহকদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করে নেয় তারা।
ফলে যারা বিনামূল্যে সিম নিয়েছেন, তাদের অনেকের পরিচয়পত্রে অজান্তেই প্রায় ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত অতিরিক্ত নম্বর নিবন্ধিত হয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এসব অতিরিক্ত সিম দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট সিম যাদের নামে নিবন্ধিত, তারাই আইনি ঝামেলায় পড়ছেন। এতে বহু নিরীহ মানুষ অজান্তেই মামলার আসামি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।
আকচা এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজা জানান, তার পরিবারের সদস্যরাও এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, তার মা, ভাবি ও বোনকে বিনামূল্যে সিম ও রিচার্জ দেওয়ার কথা বলে একটি করে সিম দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা জানতে পারেন, একটি সিম নেওয়ার সুযোগে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধন করা হয়েছে।
একই এলাকার নুর নাহার বেগম বলেন, তিনি একটি সিম কিনেছিলেন। পরে জানতে পারেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্রে আরও কয়েকটি নম্বর নিবন্ধিত রয়েছে। অনেকেই এ কারণে মামলার ঝামেলায় পড়েছেন শুনে তিনি আতঙ্কে আছেন।
সাদিকুল নামের আরেক ভুক্তভোগী জানান, তার স্ত্রী একটি সিম নেওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই হঠাৎ পুলিশ তাদের বাড়িতে আসে। পরে তারা জানতে পারেন, তার স্ত্রীর নামে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য ঢাকায় গিয়ে অনেক অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
সোলেমান নামের আরেকজন বলেন, তার স্ত্রীও একই ঘটনায় মামলার আসামি হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের কয়েকবার দূরে যেতে হয়েছে এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, সমস্যার সমাধানের আশায় তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে গেলেও তেমন সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তাদের বলা হয়েছে, নিবন্ধিত সিম বাতিল করা সম্ভব নয় এবং এ বিষয়ে জানতে ঢাকায় যোগাযোগ করতে হবে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয় জানিয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক সিম নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকলে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।



















