ঠিকানা শুধু একটি হুইলচেয়ার: কমলাপুরে ধরা পড়ল মানবতার নির্মম ছবি
নিউজ ডেস্ক | রোজ খবর
মসজিদে মসজিদে নামাজ শেষে মানুষ যখন ফিরছিল ঘরে—
কেউ পরিবারের কাছে, কেউ প্রিয়জনের কাছে। ঠিক সেই সময় রাজধানীর ব্যস্ততম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন–এর এক কোণে ধরা পড়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
রোজ খবরের সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম খোকন–এর ক্যামেরায় ধরা পড়ে সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা। একটি পুরোনো হুইলচেয়ারে মাথা নত করে বসে আছেন দুই অসহায় পঙ্গু মানুষ। ক্লান্ত শরীর, এলোমেলো চুল আর চোখে অদ্ভুত এক শূন্যতা—যেন পৃথিবীর কোথাও তাদের আর কোনো ঠিকানা নেই।
তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—
“আপনাদের বাড়ি কোথায়?”
কিন্তু কোনো উত্তর মেলেনি।
কারণ, হয়তো তারাও জানেন না—তাদের কোনো বাড়ি আছে কি না।
সেখানে উপস্থিত এক রেলওয়ে পুলিশ সদস্য (পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান,
তাদের ঠিকানা বলতে একটাই—এই হুইলচেয়ার। এই হুইলচেয়ারই তাদের ঘর, এই হুইলচেয়ারই তাদের আশ্রয়।
ভাবতে অবাক লাগে—এই বিশাল শহরের কোলাহলের মাঝেই, হাজারো মানুষের ভিড়ের ভেতরেও এমন মানুষ বেঁচে আছেন, যাদের কোনো নাম নেই, কোনো পরিচয় নেই, নেই কোনো পরিবারের স্নেহ।
সমাজের লোকচক্ষুর আড়ালে এভাবেই পড়ে আছে অসংখ্য পরিচয়হীন অসহায় মানুষ।
তাদের খবর রাখার মতো কেউ নেই, তাদের কষ্ট দেখার মতো সময়ও যেন কারও নেই।
এই দৃশ্য দেখে রোজ খবরের এই প্রতিবেদক নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছে—মানবতার এই পৃথিবীতে কি সত্যিই তাদের জন্য কোনো জায়গা নেই?
তবে রোজ খবর বিশ্বাস করে—মানবতা এখনো বেঁচে আছে। এই সমাজে এখনো অনেক দয়ালু হৃদয়ের মানুষ আছেন।
তাই সমাজের বিত্তবান, মানবিক ও সহৃদয় মানুষের কাছে আমাদের বিনীত আহ্বান—
পবিত্র রমজানের এই বরকতময় সময়ে আসুন আমরা আল্লাহর এই অসহায় বান্দাদের পাশে দাঁড়াই।
হয়তো আপনার সামান্য সহানুভূতি, সামান্য সাহায্যই বদলে দিতে পারে কোনো এক অসহায় মানুষের জীবন।
হয়তো আপনার একটি হাত বাড়িয়ে দেওয়া—একটি ক্লান্ত মুখে এনে দিতে পারে শান্তির হাসি।
আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি—
এই সমাজে যেন আর কোনো মানুষ ঠিকানা হিসেবে শুধু একটি হুইলচেয়ারকে না পায়।
মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে সমাজসেবামূলক সংগঠন ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে রোজ খবর।
তথ্যচিত্রে: শহিদুল ইসলাম খোকন



















