১৮০ দিনের মধ্যে বন্ধ কারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার
বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আশার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার গঠনের ছয় মাস বা ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) ঢাকার বেইলি রোডে শ্রমমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও নন-আরএমজি খাতে শ্রম অসন্তোষ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যেই অগ্রাধিকারভিত্তিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে এবং শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দেশের সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদের বোনাস অবশ্যই ছুটির আগেই পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকদের প্রাপ্য পাওনা নিয়ে যেন কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামে বর্তমানে ২,১২৭টি কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১,৯৬৪টি কারখানা (৯২.৩৪ শতাংশ) ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে এবং ১,৫৩৫টি কারখানা (৭২.১৭ শতাংশ) ঈদের বোনাস দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ বাধ্যতামূলক নয়। যেসব কারখানার সামর্থ্য আছে তারা তা দেবে। তবে কিছু মহল শ্রমিকদের উসকে দিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ৫১২টি কারখানা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে এবং ৬০৪টি কারখানা ঈদের বোনাস পরিশোধ করেছে। অধিকাংশ কারখানা বেতন-বোনাস পরিশোধ করায় বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, আপদকালীন একটি তহবিল গঠন করা গেলে সেই অর্থ দিয়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস সংক্রান্ত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।



















