নেপথ্যে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার
এবার বের হয়ে এল মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যার পেছনে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজগাঁওয়ের তেজতুরি বাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা ৪–৫ জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত মুছাব্বির ও তার সহযোগী সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদকে কাছ থেকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই মুছাব্বির মারা যান। গুরুতর আহত মাসুদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পরপরই মহানগর পুলিশ হত্যাকারীদের শনাক্তে অভিযান শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুই শুটারকে গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ, চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী রোজ খবরকে বলেন, মুছাব্বির হত্যার নেপথ্যে চাঁদাবাজি ও এলাকা দখলের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় রহমান নামে এক ব্যক্তি জড়িত বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটন হবে। রহমান কাওরান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় নিহত মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ৪–৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তিনি রোজ খবরকে বলেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন। তবে রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক কোনো সমস্যার কথা পরিবারকে বিস্তারিত জানাননি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও তেজগাঁও থানা পুলিশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কাওরান বাজারে চাঁদাবাজি, ফার্মগেট এলাকায় গ্যারেজ দখল এবং ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার ঘটনায় মুছাব্বিরের সঙ্গে একাধিক পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিশেষ করে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা আবদুর রহমানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হত্যাকারীরা ঘটনার আগেই এলাকায় অবস্থান করছিল। হামলার পর তারা বিভিন্ন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




















