ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদের পর বিএনপির অঙ্গসংগঠনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

নিজস্ব সংবাদ :

দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, শীর্ষ নেতাদের সরকারি দায়িত্বে ব্যস্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের স্থবিরতার কারণে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর থেকেই এসব সংগঠনে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

জানা গেছে, বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে অন্তত ১০টিরই কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। ফলে সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের পথ সংকুচিত হয়েছে।

এদিকে মূল দল বিএনপিতেও দীর্ঘদিন জাতীয় কাউন্সিল হয়নি। সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। যদিও এর মধ্যে নির্বাহী কমিটিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক পুনর্গঠন হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সংসদ ও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাওয়ায় অনেক নেতার সাংগঠনিক কাজে মনোযোগ কমেছে। এতে দলীয় কার্যক্রমে গতি কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত সরকারের কাজই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তাই চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঈদের পরপরই যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোকে অত্যন্ত জরুরি মনে করছে দলটি।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় অনেক যোগ্য নেতা পদবঞ্চিত হচ্ছেন। এতে একদিকে হতাশা বাড়ছে, অন্যদিকে সংগঠনের ভেতরে কোন্দলও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই কমিটি দীর্ঘদিন বহাল থাকায় তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের দূরত্বও তৈরি হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে সময়মতো আলোচনা হবে।”

অন্যদিকে দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অঙ্গসংগঠনের অনেক শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন। ফলে এসব সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হওয়া তারেক রহমানও সম্প্রতি সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার নির্দেশনার পরই অঙ্গসংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বিএনপি এখন সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। ঈদের পর এই পরিবর্তনের দৃশ্যমান সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৮:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
৯ বার পড়া হয়েছে

ঈদের পর বিএনপির অঙ্গসংগঠনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, শীর্ষ নেতাদের সরকারি দায়িত্বে ব্যস্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের স্থবিরতার কারণে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর থেকেই এসব সংগঠনে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

জানা গেছে, বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে অন্তত ১০টিরই কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। ফলে সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের পথ সংকুচিত হয়েছে।

এদিকে মূল দল বিএনপিতেও দীর্ঘদিন জাতীয় কাউন্সিল হয়নি। সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। যদিও এর মধ্যে নির্বাহী কমিটিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক পুনর্গঠন হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সংসদ ও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাওয়ায় অনেক নেতার সাংগঠনিক কাজে মনোযোগ কমেছে। এতে দলীয় কার্যক্রমে গতি কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত সরকারের কাজই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তাই চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলোতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঈদের পরপরই যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সংগঠনে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোকে অত্যন্ত জরুরি মনে করছে দলটি।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় অনেক যোগ্য নেতা পদবঞ্চিত হচ্ছেন। এতে একদিকে হতাশা বাড়ছে, অন্যদিকে সংগঠনের ভেতরে কোন্দলও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই কমিটি দীর্ঘদিন বহাল থাকায় তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের দূরত্বও তৈরি হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে সময়মতো আলোচনা হবে।”

অন্যদিকে দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অঙ্গসংগঠনের অনেক শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হয়েছেন। ফলে এসব সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আনা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হওয়া তারেক রহমানও সম্প্রতি সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার নির্দেশনার পরই অঙ্গসংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বিএনপি এখন সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। ঈদের পর এই পরিবর্তনের দৃশ্যমান সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481