ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালবাগে ডাকাত চক্রের আস্তানা ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেপ্তার ৭

নিজস্ব সংবাদ :

লালবাগে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার, বিদেশি পিস্তলসহ নানা সরঞ্জাম উদ্ধার
রাজধানীর লালবাগে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার নাম ও পদবি ব্যবহার করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, ওয়াকিটকি এবং দেশি-বিদেশি অস্ত্রের মাধ্যমে ডাকাতি ও দস্যুতা চালিয়ে আসছিল।
রোববার (১৬ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন দুরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় কয়েকজনের সংঘবদ্ধ দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পাওয়ার পর লালবাগ বিভাগের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের প্রথম পর্যায়ে মো. তৌহর আলী সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাটোলে সরদারসহ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. তৌহর আলী সরদার (৪৫), পাভেল সরদার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৮), ইমরান হোসেন ভূঁইয়া (২৮), নূরুল ইসলাম (৩৩) ও মো. ইসমাইল (২৮)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে পাভেল সরদার চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার এবং রাব্বি আলম চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য।
অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে কিরিচ, মোবাইল ফোন, র‍্যাবের লোগোযুক্ত আইডি কার্ড হোল্ডার, সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ, ওয়াকিটকি, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, ভুয়া নম্বর প্লেট, র‍্যাব ও ডিবির নামযুক্ত ভেস্ট, রিফ্লেক্টিভ টর্চ, পিস্তল কাভার এবং খেলনা পিস্তলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হতো।
ডিএমপি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি মামলা এবং রূপগঞ্জ থানায় পৃথক একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছে, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীতে ডাকাতি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে ডিএমপি।
ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের সদস্যরা অতীতে কোথায় কোথায় একই কৌশলে ডাকাতি করেছে এবং তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত—সেসব তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৬:০৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
০ বার পড়া হয়েছে

লালবাগে ডাকাত চক্রের আস্তানা ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেপ্তার ৭

আপডেট সময় ০৬:০৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

লালবাগে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার, বিদেশি পিস্তলসহ নানা সরঞ্জাম উদ্ধার
রাজধানীর লালবাগে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দলের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার নাম ও পদবি ব্যবহার করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, ওয়াকিটকি এবং দেশি-বিদেশি অস্ত্রের মাধ্যমে ডাকাতি ও দস্যুতা চালিয়ে আসছিল।
রোববার (১৬ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, কামরাঙ্গীরচর থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন দুরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় কয়েকজনের সংঘবদ্ধ দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পাওয়ার পর লালবাগ বিভাগের নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের প্রথম পর্যায়ে মো. তৌহর আলী সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাটোলে সরদারসহ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. তৌহর আলী সরদার (৪৫), পাভেল সরদার (৩৩), সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৮), ইমরান হোসেন ভূঁইয়া (২৮), নূরুল ইসলাম (৩৩) ও মো. ইসমাইল (২৮)। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে পাভেল সরদার চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার এবং রাব্বি আলম চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য।
অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে কিরিচ, মোবাইল ফোন, র‍্যাবের লোগোযুক্ত আইডি কার্ড হোল্ডার, সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ, ওয়াকিটকি, পুলিশের লোগোযুক্ত হ্যান্ডকাফ, ভুয়া নম্বর প্লেট, র‍্যাব ও ডিবির নামযুক্ত ভেস্ট, রিফ্লেক্টিভ টর্চ, পিস্তল কাভার এবং খেলনা পিস্তলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করা হতো।
ডিএমপি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও দস্যুতার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে একটি মামলা এবং রূপগঞ্জ থানায় পৃথক একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও যারা জড়িত রয়েছে, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানীতে ডাকাতি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানিয়েছে ডিএমপি।
ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের সদস্যরা অতীতে কোথায় কোথায় একই কৌশলে ডাকাতি করেছে এবং তাদের সঙ্গে আরও কারা জড়িত—সেসব তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।