ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে চীনের বিজ্ঞানীদের বিশেষ অভিযান

নিজস্ব সংবাদ :

বিশেষ কোন কারণে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভূগর্ভের মূল্যবান সম্পদ ঘিরে ইরান ও চীনের সম্পর্ক এবার নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে যাচ্ছে দুই দেশ। এ জন্য চীনা বিজ্ঞানীরা ইরানের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা হিসেবে দেখলে এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। কারণ রেয়ার আর্থ বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন, ইলেকট্রনিক্স, রোবটিকস, উন্নত চুম্বকসহ নানা আধুনিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ফলে এসব খনিজের সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কেন ইরান?
ইরানে বিভিন্ন অঞ্চলে বিরল খনিজের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে কোনো দেশে রেয়ার আর্থের উপস্থিতি থাকলেই সেটিকে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। কোথায় খনিজ রয়েছে, কী পরিমাণে রয়েছে এবং কীভাবে তা আলাদা ও পরিশোধন করা যাবে—এসব নির্ধারণের জন্য উন্নত ভূতাত্ত্বিক ও রাসায়নিক প্রযুক্তির প্রয়োজন।
চীনের বিশেষত্ব এখানেই। দেশটি শুধু রেয়ার আর্থ উৎপাদনেই এগিয়ে নয়, খনিজ আলাদা করা, পরিশোধন এবং শিল্প পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাতকরণেও বিশ্বে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাবে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী রেয়ার আর্থের separation ও refining সক্ষমতার প্রায় ৯১ শতাংশ এবং sintered permanent magnet উৎপাদনের প্রায় ৯৪ শতাংশ চীনের হাতে ছিল।
এবার কী করছে চীন?
চীন ও ইরানের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ কর্মশালার কর্মসূচিতে এবার ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্টের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর অর্থ, ইরানের সম্ভাব্য রেয়ার আর্থ সম্পদ চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে সেগুলো কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যায়—এসব বিষয়ে দুই দেশের গবেষকেরা জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ ভাগাভাগি করবেন।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি—এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এটি বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা ও গবেষণা কর্মসূচি। চীন ইরানের খনি কিনে নিচ্ছে বা সেখানে বড় বাণিজ্যিক রেয়ার আর্থ সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করছে—এমন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
রেয়ার আর্থ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
রেয়ার আর্থ বলতে একটিমাত্র খনিজকে বোঝায় না; এটি ১৭টি রাসায়নিক মৌলের একটি গোষ্ঠী। এসব মৌলের বিশেষ চৌম্বকীয়, বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কারণে আধুনিক প্রযুক্তিতে এগুলোর চাহিদা রয়েছে।
বিশেষ করে উচ্চক্ষমতার স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে কিছু রেয়ার আর্থ উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। এসব চুম্বক বৈদ্যুতিক মোটর, বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র, রোবটিকস এবং বিভিন্ন উন্নত ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়। প্রতিরক্ষা খাতেও রেয়ার আর্থ-ভিত্তিক উপাদানের ব্যবহার রয়েছে।
খনিজের চেয়ে বড় শক্তি ‘প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি’
রেয়ার আর্থ নিয়ে আসল প্রতিযোগিতা শুধু মাটির নিচে কত খনিজ আছে তা নিয়ে নয়। খনিজ উত্তোলনের পর বিভিন্ন উপাদানকে আলাদা করা, বিশুদ্ধ করা এবং শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী করা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া।
চীন কয়েক দশকে এই পুরো সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সক্ষমতা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দেশটি রেয়ার আর্থ-সংক্রান্ত কিছু প্রযুক্তি ও পণ্যের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণও আরোপ করেছে। ফলে চীনের ইরানের সঙ্গে এই ক্ষেত্রে গবেষণা সহযোগিতা আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই তীব্র। রেয়ার আর্থ সেই প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প খনিজ সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। এর মধ্যেই ইরানের মতো সম্ভাবনাময় একটি দেশে চীনের গবেষণা সহযোগিতা নতুন ভূরাজনৈতিক হিসাব তৈরি করতে পারে।
তবে ইরানের সম্ভাব্য মজুতকে এখনই বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা আর অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক খনি—দুটি এক বিষয় নয়। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে হলে অনুসন্ধান, পরিবেশগত মূল্যায়ন, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা—সবকিছুর প্রয়োজন হবে।
চীন-ইরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়?
সব মিলিয়ে, ইরানে চীনা বিজ্ঞানীদের সম্ভাব্য উপস্থিতি শুধু খনিজ অনুসন্ধানের ঘটনা নয়; এটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প ও ভূরাজনীতির সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইরান যদি ভবিষ্যতে তার সম্ভাব্য রেয়ার আর্থ সম্পদ বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে পারে এবং চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা সেখানে যুক্ত হয়, তাহলে দেশটির খনিজ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে চীন ইরানের ভূতাত্ত্বিক সম্পদ ও গবেষণাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের সুযোগ পেতে পারে।
তাই প্রশ্নটি শুধু “চীনা বিজ্ঞানীরা কেন ইরান যাচ্ছেন?”—এতেই সীমাবদ্ধ নয়। বড় প্রশ্ন হলো, আগামী দিনে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত খনিজের সরবরাহব্যবস্থায় ইরানকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে চীন-ইরান এই নতুন সহযোগিতা? এর উত্তর নির্ভর করবে গবেষণার ফল, সম্ভাব্য মজুত এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক বিনিয়োগের ওপর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানে চীনের বিজ্ঞানীদের বিশেষ অভিযান

আপডেট সময় ০৭:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বিশেষ কোন কারণে ইরান যাচ্ছেন চীনের বিজ্ঞানীরা?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভূগর্ভের মূল্যবান সম্পদ ঘিরে ইরান ও চীনের সম্পর্ক এবার নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে যাচ্ছে দুই দেশ। এ জন্য চীনা বিজ্ঞানীরা ইরানের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা হিসেবে দেখলে এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। কারণ রেয়ার আর্থ বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন, ইলেকট্রনিক্স, রোবটিকস, উন্নত চুম্বকসহ নানা আধুনিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ফলে এসব খনিজের সরবরাহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা এখন বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কেন ইরান?
ইরানে বিভিন্ন অঞ্চলে বিরল খনিজের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে কোনো দেশে রেয়ার আর্থের উপস্থিতি থাকলেই সেটিকে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। কোথায় খনিজ রয়েছে, কী পরিমাণে রয়েছে এবং কীভাবে তা আলাদা ও পরিশোধন করা যাবে—এসব নির্ধারণের জন্য উন্নত ভূতাত্ত্বিক ও রাসায়নিক প্রযুক্তির প্রয়োজন।
চীনের বিশেষত্ব এখানেই। দেশটি শুধু রেয়ার আর্থ উৎপাদনেই এগিয়ে নয়, খনিজ আলাদা করা, পরিশোধন এবং শিল্প পর্যায়ে প্রক্রিয়াজাতকরণেও বিশ্বে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাবে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী রেয়ার আর্থের separation ও refining সক্ষমতার প্রায় ৯১ শতাংশ এবং sintered permanent magnet উৎপাদনের প্রায় ৯৪ শতাংশ চীনের হাতে ছিল।
এবার কী করছে চীন?
চীন ও ইরানের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ কর্মশালার কর্মসূচিতে এবার ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্টের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর অর্থ, ইরানের সম্ভাব্য রেয়ার আর্থ সম্পদ চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতে সেগুলো কীভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যায়—এসব বিষয়ে দুই দেশের গবেষকেরা জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ ভাগাভাগি করবেন।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি—এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এটি বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা ও গবেষণা কর্মসূচি। চীন ইরানের খনি কিনে নিচ্ছে বা সেখানে বড় বাণিজ্যিক রেয়ার আর্থ সরবরাহব্যবস্থা তৈরি করছে—এমন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
রেয়ার আর্থ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
রেয়ার আর্থ বলতে একটিমাত্র খনিজকে বোঝায় না; এটি ১৭টি রাসায়নিক মৌলের একটি গোষ্ঠী। এসব মৌলের বিশেষ চৌম্বকীয়, বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কারণে আধুনিক প্রযুক্তিতে এগুলোর চাহিদা রয়েছে।
বিশেষ করে উচ্চক্ষমতার স্থায়ী চুম্বক তৈরিতে কিছু রেয়ার আর্থ উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। এসব চুম্বক বৈদ্যুতিক মোটর, বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র, রোবটিকস এবং বিভিন্ন উন্নত ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়। প্রতিরক্ষা খাতেও রেয়ার আর্থ-ভিত্তিক উপাদানের ব্যবহার রয়েছে।
খনিজের চেয়ে বড় শক্তি ‘প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি’
রেয়ার আর্থ নিয়ে আসল প্রতিযোগিতা শুধু মাটির নিচে কত খনিজ আছে তা নিয়ে নয়। খনিজ উত্তোলনের পর বিভিন্ন উপাদানকে আলাদা করা, বিশুদ্ধ করা এবং শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী করা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া।
চীন কয়েক দশকে এই পুরো সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের সক্ষমতা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দেশটি রেয়ার আর্থ-সংক্রান্ত কিছু প্রযুক্তি ও পণ্যের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণও আরোপ করেছে। ফলে চীনের ইরানের সঙ্গে এই ক্ষেত্রে গবেষণা সহযোগিতা আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই তীব্র। রেয়ার আর্থ সেই প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প খনিজ সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে। এর মধ্যেই ইরানের মতো সম্ভাবনাময় একটি দেশে চীনের গবেষণা সহযোগিতা নতুন ভূরাজনৈতিক হিসাব তৈরি করতে পারে।
তবে ইরানের সম্ভাব্য মজুতকে এখনই বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা আর অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক খনি—দুটি এক বিষয় নয়। বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে হলে অনুসন্ধান, পরিবেশগত মূল্যায়ন, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা—সবকিছুর প্রয়োজন হবে।
চীন-ইরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়?
সব মিলিয়ে, ইরানে চীনা বিজ্ঞানীদের সম্ভাব্য উপস্থিতি শুধু খনিজ অনুসন্ধানের ঘটনা নয়; এটি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্প ও ভূরাজনীতির সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইরান যদি ভবিষ্যতে তার সম্ভাব্য রেয়ার আর্থ সম্পদ বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে পারে এবং চীনের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা সেখানে যুক্ত হয়, তাহলে দেশটির খনিজ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে চীন ইরানের ভূতাত্ত্বিক সম্পদ ও গবেষণাক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের সুযোগ পেতে পারে।
তাই প্রশ্নটি শুধু “চীনা বিজ্ঞানীরা কেন ইরান যাচ্ছেন?”—এতেই সীমাবদ্ধ নয়। বড় প্রশ্ন হলো, আগামী দিনে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত খনিজের সরবরাহব্যবস্থায় ইরানকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে চীন-ইরান এই নতুন সহযোগিতা? এর উত্তর নির্ভর করবে গবেষণার ফল, সম্ভাব্য মজুত এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক বিনিয়োগের ওপর।