৭১ ও ২৪-এর আত্মত্যাগ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪—উভয় সময়ের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব এখন দেশের প্রতিটি নাগরিকের।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মত্যাগ করেছেন—তাদের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তোলাই ছিল তাদের স্বপ্ন, যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে, নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশের মধ্যে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। সেই পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা।
শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান
শহীদদের আত্মত্যাগের ঋণ কোনোভাবেই পুরোপুরি শোধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একটি মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। তাই শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।
শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে যারা বেঁচে আছেন, তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতি দায়িত্ববোধকে শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একজন নাগরিক তার কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
মানুষের পাশে দাঁড়াতে স্কাউটদের প্রতি আহ্বান
বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যদের দেশের মানুষের কল্যাণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রাণ-প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
দুর্যোগ, বিপদ কিংবা মানুষের সংকটের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়াতে স্কাউটদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে অন্যদেরও মানুষের সেবায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
শহীদ পরিবারের পাশে থাকার বার্তা
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা জানানো হয়। শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সরকার ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের পরিবার যেন নিজেদের একা মনে না করে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের আদর্শ ও স্বপ্নকে বাস্তব জীবনে ধারণ করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অধিকারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা দেওয়া সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে, তা নির্ভর করবে বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্বশীলতা, সততা ও দেশপ্রেমের ওপর। ১৯৭১ ও ২০২৪-এর আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই হতে পারে সেই আত্মত্যাগের প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা।



















