ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫৪ বছরে এসএসসি পাস, ছেলে ডাক্তার

নিজস্ব সংবাদ :

ছেলে ডাক্তার, মেয়ে সেবিকা—৫৪ বছরে এসএসসি পাস বাবার
নাটোর প্রতিনিধি: বয়স ৫৪। জীবনের অর্ধশতক পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষার স্বপ্নকে অতীত বলে মনে করেন, তখন সেই বয়সেই বই-খাতা হাতে তুলে নিয়ে এসএসসি পাস করেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার আলী আকবর। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়ে তিনি অর্জন করেছেন জিপিএ ৪.৩৫।
বাগাতিপাড়া পৌরসভার পেড়াবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আলী আকবরের এই সাফল্য এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে তার গল্প শুধু ভালো ফল করার নয়—এটি দারিদ্র্য, দায়িত্ব, ত্যাগ আর অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের এক অনন্য কাহিনি।
ছোটবেলায় পরিবারের আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় আলী আকবরের। বাবার সঙ্গে কাজে যুক্ত হয়ে নিতে হয় পরিবারের দায়িত্ব। পরে সংসার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তেই কেটে যায় জীবনের দীর্ঘ সময়। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর একটি হাসপাতালে চাকরি করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন তিনি।
তার সেই ত্যাগের ফলও এসেছে। ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন চিকিৎসক হিসেবে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। মেয়ে ফাতেমা খাতুন রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ সেবিকা।
সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিজের বহু বছরের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের সিদ্ধান্ত নেন আলী আকবর। পরিবারের উৎসাহে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ বিরতির পরও হাল ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের চেষ্টাতেই এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
আলী আকবর বলেন, দারিদ্র্যের কারণে জীবনের শুরুতেই পড়াশোনা থেমে গিয়েছিল। পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে হয়েছিল। সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার পর মনে হয়েছে, এবার নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করা দরকার। সেই চেষ্টা সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, “শেখার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই।”
ছেলে ইসমাইল হোসেন জানান, বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল আবার পড়াশোনা শুরু করা। বাবার এসএসসি পাসে পরিবারের সবাই আনন্দিত। তাকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া হবে।
৫৪ বছর বয়সে আলী আকবরের এসএসসি পাস তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়—এটি প্রমাণ, জীবনের কোনো বয়সেই স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথ বন্ধ হয়ে যায় না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

৫৪ বছরে এসএসসি পাস, ছেলে ডাক্তার

আপডেট সময় ০৭:৩৬:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ছেলে ডাক্তার, মেয়ে সেবিকা—৫৪ বছরে এসএসসি পাস বাবার
নাটোর প্রতিনিধি: বয়স ৫৪। জীবনের অর্ধশতক পেরিয়ে যখন অনেকেই শিক্ষার স্বপ্নকে অতীত বলে মনে করেন, তখন সেই বয়সেই বই-খাতা হাতে তুলে নিয়ে এসএসসি পাস করেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার আলী আকবর। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়ে তিনি অর্জন করেছেন জিপিএ ৪.৩৫।
বাগাতিপাড়া পৌরসভার পেড়াবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আলী আকবরের এই সাফল্য এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে তার গল্প শুধু ভালো ফল করার নয়—এটি দারিদ্র্য, দায়িত্ব, ত্যাগ আর অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের এক অনন্য কাহিনি।
ছোটবেলায় পরিবারের আর্থিক সংকটে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় আলী আকবরের। বাবার সঙ্গে কাজে যুক্ত হয়ে নিতে হয় পরিবারের দায়িত্ব। পরে সংসার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তেই কেটে যায় জীবনের দীর্ঘ সময়। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর একটি হাসপাতালে চাকরি করে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন তিনি।
তার সেই ত্যাগের ফলও এসেছে। ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন চিকিৎসক হিসেবে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। মেয়ে ফাতেমা খাতুন রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ সেবিকা।
সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর নিজের বহু বছরের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের সিদ্ধান্ত নেন আলী আকবর। পরিবারের উৎসাহে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। দীর্ঘ বিরতির পরও হাল ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের চেষ্টাতেই এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।
আলী আকবর বলেন, দারিদ্র্যের কারণে জীবনের শুরুতেই পড়াশোনা থেমে গিয়েছিল। পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে হয়েছিল। সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার পর মনে হয়েছে, এবার নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করা দরকার। সেই চেষ্টা সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, “শেখার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই।”
ছেলে ইসমাইল হোসেন জানান, বাবার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল আবার পড়াশোনা শুরু করা। বাবার এসএসসি পাসে পরিবারের সবাই আনন্দিত। তাকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়া হবে।
৫৪ বছর বয়সে আলী আকবরের এসএসসি পাস তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়—এটি প্রমাণ, জীবনের কোনো বয়সেই স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথ বন্ধ হয়ে যায় না।