ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, বিদ্যুৎ অফিসের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি

নিজস্ব সংবাদ :

বিদ্যুৎ সংকটে নেত্রকোনায় জনদুর্ভোগ চরমে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদ্যুৎ অফিস
তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার জনজীবন। জেলার বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নেমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগও বেড়েছে। রাতের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে অনেক পরিবার ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছে না। ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট বিকেলে নেত্রকোনায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১১০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও তখন পাওয়া যায়নি। পরদিন চাহিদা বেড়ে প্রায় ১২০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ ছিল প্রায় ৬০ মেগাওয়াট। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং করতে হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে চার-পাঁচ ঘণ্টার আগে ফিরে না আসার অভিযোগও করেছেন গ্রাহকেরা। আবার বিদ্যুৎ এলেও অল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় চলে যাওয়ায় স্বস্তি মিলছে না।
বর্তমানে নেত্রকোনায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ১৮০ থেকে ১৮৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার চাহিদা প্রায় ১৫৯ মেগাওয়াট। ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ গ্রিড থেকে নেত্রকোনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। গ্রিড পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শুধু বাসাবাড়ি নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও ক্ষতির মুখে পড়ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে গ্রাহকদের ক্ষোভ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ কারণে জেলার বিদ্যুৎ কার্যালয় এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। শহর এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় রয়েছে আরও প্রায় ৫৭ হাজার গ্রাহক। সব মিলিয়ে জেলায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ২৮ হাজার।
তবে হাসপাতাল, আদালত, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি স্থাপনাগুলো সচল রাখতে এসব এলাকায় তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ বিভ্রাট করা হচ্ছে। ফলে শহরের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হলেও গ্রামীণ ও আবাসিক এলাকার মানুষকে তুলনামূলক বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অবহিত করা হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—তীব্র গরমে যখন বিদ্যুৎ মানুষের জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান নির্ভরতা, তখন চাহিদা ও সরবরাহের এই বিশাল ঘাটতি আর কতদিন চলবে? দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০২:৩৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী, বিদ্যুৎ অফিসের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি

আপডেট সময় ০২:৩৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ সংকটে নেত্রকোনায় জনদুর্ভোগ চরমে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিদ্যুৎ অফিস
তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার জনজীবন। জেলার বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নেমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগও বেড়েছে। রাতের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে অনেক পরিবার ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছে না। ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট বিকেলে নেত্রকোনায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১১০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও তখন পাওয়া যায়নি। পরদিন চাহিদা বেড়ে প্রায় ১২০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ ছিল প্রায় ৬০ মেগাওয়াট। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং করতে হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে চার-পাঁচ ঘণ্টার আগে ফিরে না আসার অভিযোগও করেছেন গ্রাহকেরা। আবার বিদ্যুৎ এলেও অল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় চলে যাওয়ায় স্বস্তি মিলছে না।
বর্তমানে নেত্রকোনায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ১৮০ থেকে ১৮৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার চাহিদা প্রায় ১৫৯ মেগাওয়াট। ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ গ্রিড থেকে নেত্রকোনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। গ্রিড পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শুধু বাসাবাড়ি নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও ক্ষতির মুখে পড়ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে গ্রাহকদের ক্ষোভ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এ কারণে জেলার বিদ্যুৎ কার্যালয় এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। শহর এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় রয়েছে আরও প্রায় ৫৭ হাজার গ্রাহক। সব মিলিয়ে জেলায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ২৮ হাজার।
তবে হাসপাতাল, আদালত, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি স্থাপনাগুলো সচল রাখতে এসব এলাকায় তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ বিভ্রাট করা হচ্ছে। ফলে শহরের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হলেও গ্রামীণ ও আবাসিক এলাকার মানুষকে তুলনামূলক বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অবহিত করা হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—তীব্র গরমে যখন বিদ্যুৎ মানুষের জীবনযাত্রার অন্যতম প্রধান নির্ভরতা, তখন চাহিদা ও সরবরাহের এই বিশাল ঘাটতি আর কতদিন চলবে? দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।