ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ দলের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত: রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমেদ

নিজস্ব সংবাদ :

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমেদ—ভোটের মাঠে বড় চ্যালেঞ্জ, নেপথ্যে কোন হিসাব?
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৯ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বিরোধী জোটের বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে প্রশ্ন এখন একটাই—অলি আহমেদের প্রার্থিতা কি শুধুই একটি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নাকি এর মধ্য দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে?
রোববার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক বসে। বৈঠকের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জোটের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। শেষ পর্যন্ত অলি আহমেদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে হাতে সময় খুব বেশি নেই। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রার্থী মনোনয়ন, রাজনৈতিক সমর্থন, ভোটের সমীকরণ এবং জোটগত অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে।
অলি আহমেদকে ঘিরে কেন গুরুত্ব?
অলি আহমেদ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা। এলডিপির সভাপতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। ফলে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হওয়ার হিসাব এক নয়। ভোটের ফল নির্ভর করবে নির্বাচনী ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের সমর্থন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের ওপর।
এখানেই সামনে আসছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—১১ দলীয় ঐক্য তাদের ঘোষিত প্রার্থীর পক্ষে কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান কী হবে?
জামায়াতের সিদ্ধান্তে বাড়ছে আলোচনা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বাভাবিকভাবেই নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। কোন দল কাকে সমর্থন করবে, কারা নিজস্ব অবস্থানে থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের অঙ্ক কোন দিকে যাবে—এসব প্রশ্ন এখন সামনে।
আসল পরীক্ষা জোটের ঐক্যের
অলি আহমেদের প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য একটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। কিন্তু সেই বার্তাকে নির্বাচনী সাফল্যে রূপ দিতে হলে জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য বক্তব্যের পাশাপাশি তাদের বাস্তব অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশ্যে যে সমীকরণ দেখা যাচ্ছে, ভোটের সময় তার সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণের পার্থক্য থাকতেও পারে।
তাই এখন নজর থাকবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের দিকে।
২০ আগস্টেই চূড়ান্ত পরীক্ষা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট নির্ধারিত হওয়ায় সামনে সময় সীমিত। অলি আহমেদের প্রার্থিতা ঘোষণার পর এখন মূল প্রশ্ন—১১ দলীয় ঐক্য কতটা সমর্থন একত্র করতে পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলো কী কৌশল নেয়।
রাষ্ট্রপতি পদ সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই নির্বাচন কেবল একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়; এর মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক অবস্থান, জোটের শক্তি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র সামনে আসতে পারে।
২০ আগস্টের ভোট তাই শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নয়—রাজনৈতিক অঙ্কেরও বড় পরীক্ষা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০২:২১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

১১ দলের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত: রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমেদ

আপডেট সময় ০২:২১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমেদ—ভোটের মাঠে বড় চ্যালেঞ্জ, নেপথ্যে কোন হিসাব?
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৯ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বিরোধী জোটের বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে প্রশ্ন এখন একটাই—অলি আহমেদের প্রার্থিতা কি শুধুই একটি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নাকি এর মধ্য দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে?
রোববার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক বসে। বৈঠকের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জোটের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। শেষ পর্যন্ত অলি আহমেদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে হাতে সময় খুব বেশি নেই। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রার্থী মনোনয়ন, রাজনৈতিক সমর্থন, ভোটের সমীকরণ এবং জোটগত অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে।
অলি আহমেদকে ঘিরে কেন গুরুত্ব?
অলি আহমেদ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা। এলডিপির সভাপতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। ফলে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হওয়ার হিসাব এক নয়। ভোটের ফল নির্ভর করবে নির্বাচনী ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের সমর্থন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের ওপর।
এখানেই সামনে আসছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—১১ দলীয় ঐক্য তাদের ঘোষিত প্রার্থীর পক্ষে কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান কী হবে?
জামায়াতের সিদ্ধান্তে বাড়ছে আলোচনা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত এরই মধ্যে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াতের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বাভাবিকভাবেই নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। কোন দল কাকে সমর্থন করবে, কারা নিজস্ব অবস্থানে থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের অঙ্ক কোন দিকে যাবে—এসব প্রশ্ন এখন সামনে।
আসল পরীক্ষা জোটের ঐক্যের
অলি আহমেদের প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য একটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। কিন্তু সেই বার্তাকে নির্বাচনী সাফল্যে রূপ দিতে হলে জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্য বক্তব্যের পাশাপাশি তাদের বাস্তব অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশ্যে যে সমীকরণ দেখা যাচ্ছে, ভোটের সময় তার সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণের পার্থক্য থাকতেও পারে।
তাই এখন নজর থাকবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের দিকে।
২০ আগস্টেই চূড়ান্ত পরীক্ষা
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট নির্ধারিত হওয়ায় সামনে সময় সীমিত। অলি আহমেদের প্রার্থিতা ঘোষণার পর এখন মূল প্রশ্ন—১১ দলীয় ঐক্য কতটা সমর্থন একত্র করতে পারে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলো কী কৌশল নেয়।
রাষ্ট্রপতি পদ সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই নির্বাচন কেবল একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নয়; এর মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক অবস্থান, জোটের শক্তি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র সামনে আসতে পারে।
২০ আগস্টের ভোট তাই শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নয়—রাজনৈতিক অঙ্কেরও বড় পরীক্ষা।