ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চালক-সহকারী আটক

ভিক্টর ক্লাসিকের চলন্ত বাসে জবি শিক্ষার্থীর স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি

ফাহিমা আক্তার, জবি প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে চলন্ত ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে চালক ও তার সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই নারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর স্ত্রী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়া এক যাত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও মামলা হয়েছে।

পশ্চিম টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসচালক ও তার সহকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে। সংশ্লিষ্ট বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. নাঈম ইসলামের স্ত্রী উত্তরা বিএনএস এলাকা থেকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেটগামী ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে ওঠেন। তিনি বাসটির চালকের পাশের সংরক্ষিত নারী আসনে বসেছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, পরিচয় জানার পর চালক তার সঙ্গে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাসটি সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির সামনে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পৌঁছালে মো. নাঈম ইসলাম মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চালক তাকে ধাক্কা দিয়ে মোবাইল ফোন ফেলে দেন।

ভুক্তভোগী নারী বাসটি থামানোর অনুরোধ জানালেও চালক তা উপেক্ষা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি চিৎকার শুরু করলে চালক বাসের ভেতরেই তাকে ধর্ষণের হুমকি দেন। এ সময় নূরনবী নামের এক যাত্রী প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে এলে চালক, তার সহকারী ও কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

পরবর্তীতে হোসেন মার্কেট এলাকায় বাসটি থামানো হলে যাত্রীদের সহায়তায় ওই নারীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়। তবে অন্য যাত্রীরা চলে যাওয়ার পর নূরনবীকে একা পেয়ে চালক ও তার সহকারীসহ কয়েকজন লোহার রড দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসটি আটক করা হলেও মূল অভিযুক্ত চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। পরে অপর এক চালককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ধর্ষণের হুমকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পশ্চিম টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেন মো. নাঈম ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাস মালিক সমিতির ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য থানায় এসে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত চালক কয়েক দিন আগে উত্তরা পূর্ব থানার একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৮:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
১০৯ বার পড়া হয়েছে

চালক-সহকারী আটক

ভিক্টর ক্লাসিকের চলন্ত বাসে জবি শিক্ষার্থীর স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি

আপডেট সময় ০৮:৪৪:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গীতে চলন্ত ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে চালক ও তার সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই নারী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর স্ত্রী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়া এক যাত্রীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগেও মামলা হয়েছে।

পশ্চিম টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন খান শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাসচালক ও তার সহকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে। সংশ্লিষ্ট বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মো. নাঈম ইসলামের স্ত্রী উত্তরা বিএনএস এলাকা থেকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেটগামী ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে ওঠেন। তিনি বাসটির চালকের পাশের সংরক্ষিত নারী আসনে বসেছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, পরিচয় জানার পর চালক তার সঙ্গে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বাসটি সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির সামনে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছে পৌঁছালে মো. নাঈম ইসলাম মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চালক তাকে ধাক্কা দিয়ে মোবাইল ফোন ফেলে দেন।

ভুক্তভোগী নারী বাসটি থামানোর অনুরোধ জানালেও চালক তা উপেক্ষা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি চিৎকার শুরু করলে চালক বাসের ভেতরেই তাকে ধর্ষণের হুমকি দেন। এ সময় নূরনবী নামের এক যাত্রী প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে এলে চালক, তার সহকারী ও কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

পরবর্তীতে হোসেন মার্কেট এলাকায় বাসটি থামানো হলে যাত্রীদের সহায়তায় ওই নারীকে নিরাপদে নামিয়ে দেওয়া হয়। তবে অন্য যাত্রীরা চলে যাওয়ার পর নূরনবীকে একা পেয়ে চালক ও তার সহকারীসহ কয়েকজন লোহার রড দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসটি আটক করা হলেও মূল অভিযুক্ত চালক ও সহকারী পালিয়ে যায়। পরে অপর এক চালককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ধর্ষণের হুমকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পশ্চিম টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেন মো. নাঈম ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাস মালিক সমিতির ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য থানায় এসে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত চালক কয়েক দিন আগে উত্তরা পূর্ব থানার একটি মাদক মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481