স্বস্তি নেই নিত্যপণ্যে—মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস
ঈদের আমেজ শেষ হলেও রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। মাছ, মাংস ও সবজির উচ্চমূল্যে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো নাগালের বাইরে। মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাংসের বাজারেও একই চিত্র বিরাজ করছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে ১৯৫ টাকায় এলেও তা এখনও অনেকের কাছে বেশি। অন্যদিকে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৪০ টাকা কেজিতে, যা সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।
মাছের বাজারে পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে শুরু করে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং কই-শিং জাতের মাছ ৪০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময় দাম বাড়লেও পরে কমার আশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। একাধিক ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে কিছু পণ্যের দাম সামান্য কমলেও সামগ্রিকভাবে স্বস্তি নেই।
ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ ঘাটতি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের চাপ বজায় রয়েছে। ফলে দ্রুত মূল্য কমার সম্ভাবনা কম।
এদিকে কাঁচা বাজারেও স্বস্তি নেই। ঈদের আগের তুলনায় বেশিরভাগ সবজির দাম ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঢ্যাঁড়শ ১২০ টাকা, পটোল ১০০ টাকা, মরিচ ১০০–১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ১০০–১২০ টাকা এবং উচ্ছে ও বরবটি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া করলা ১৬০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, টমেটো ৭০–৮০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিম ৫০–৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০–৭০ টাকা এবং গাজর ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









