হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড কে এই ‘মাফিয়া’ শাহীন চেয়ারম্যান? ভারত থেকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেন কিলিং মিশন
জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য খলনায়কের নাম বেরিয়ে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’। কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ ও অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই।
গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, বর্তমানে ভারতে পলাতক শাহীন আহমেদ হোয়াটসঅ্যাপ ও বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানতে পেরেছেন, এই কিলিং মিশনে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাও জড়িত ছিলেন।
শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে এলাকায় তিনি রাজনীতিবিদ হিশেবে যতটা না, তার চেয়ে ‘মাফিয়া ডন’ হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
-
ক্ষমতার উৎস: শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।
-
প্রভাব: বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও প্রশাসনের সমীহ এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী অনেক আওয়ামী লীগ নেতার মতো শাহীনও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস ধরে তিনি পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দেশের ভেতর আওয়ামী লীগের ‘হিটলিস্ট’ বা হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে স্লিপার সেলগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্র ধরে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।










