ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীরের নীরব সংকেত, অথচ ক্যান্সার ধরা পড়ে শেষ পর্যায়ে! মুখের ঘা, দীর্ঘদিনের কাশি, স্তনে চাকা, অস্বাভাবিক রক্তপাত—১১ অঙ্গের সতর্কসংকেত চিনে রাখুন, সময়মতো পরীক্ষা করান।

নিজস্ব সংবাদ :

শরীরের নীরব সংকেত, অথচ ক্যান্সার ধরা পড়ে শেষ পর্যায়ে!
মুখের ঘা থেকে ফুসফুসের কাশি, স্তনের চাকা থেকে প্রস্রাবে রক্ত—অবহেলায় বাড়ছে রোগ শনাক্তের ঝুঁকি; সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর প্রধান উপায়
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ক্যান্সার—একটি আতঙ্কের নাম। এই রোগের কথা শুনলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে মৃত্যু, দীর্ঘ চিকিৎসা, ব্যয়বহুল হাসপাতাল এবং পরিবারের অসহায়ত্বের ছবি। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ক্যান্সার এখন আর সব ক্ষেত্রে মৃত্যুর সমার্থক নয়। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অনেক ধরনের ক্যান্সার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। এমনকি কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসারও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, আমাদের সমাজে অসংখ্য মানুষ শরীরের প্রাথমিক সতর্কসংকেতগুলো বুঝতে না পেরে কিংবা অবহেলা করে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান অনেক দেরিতে।
শরীর কখনো কখনো অসুস্থতার আগাম বার্তা দেয়। মুখের ভেতরে দীর্ঘদিনের ঘা, কাশির ধরন পরিবর্তন, স্তনে নতুন চাকা, পায়খানার সঙ্গে রক্ত, প্রস্রাবে রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক রক্তপাত—এসব পরিবর্তনকে অনেকে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে করেন। কেউ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান, কেউ কাশির সিরাপ ব্যবহার করেন, কেউ আবার ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। এভাবে দিনের পর দিন পার হয়ে যায়। একপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যখন ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন অনেক ক্ষেত্রে রোগটি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চিকিৎসকদের কাছে তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনকে দীর্ঘদিন অবহেলা না করা। তবে এটিও মনে রাখতে হবে, প্রতিটি ঘা, কাশি, ব্যথা বা চাকা ক্যান্সারের লক্ষণ নয়। এসব উপসর্গের পেছনে সাধারণ ও নিরাময়যোগ্য অনেক রোগও থাকতে পারে। পরীক্ষা ছাড়া ক্যান্সার নিশ্চিত করা যায় না।
কেন ক্যান্সার ধরা পড়ে দেরিতে?
ক্যান্সার শনাক্তে দেরির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, অনেক ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। দ্বিতীয়ত, যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, সেগুলো অনেক সময় সাধারণ রোগের সঙ্গে মিলে যায়। তৃতীয়ত, মানুষের মধ্যে ক্যান্সার নিয়ে ভয়, সামাজিক সংকোচ, পরীক্ষা করানোর অনীহা এবং চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ কাজ করে।
বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসুস্থতাকে অবহেলা করার প্রবণতা দেখা যায়। অনেকে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খান। সাময়িকভাবে ব্যথা বা অস্বস্তি কমে গেলে মনে করেন সমস্যা সেরে গেছে। কিন্তু রোগের মূল কারণ থেকে যেতে পারে।
আবার নারীদের ক্ষেত্রে স্তন বা জরায়ুমুখের সমস্যার কথা পরিবারের বাইরে বলতে সংকোচ কাজ করে। পুরুষদের মধ্যে প্রস্রাবের সমস্যা কিংবা প্রজনন অঙ্গের অসুস্থতা নিয়েও অনেক সময় লজ্জা দেখা যায়। এসব কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালনির্ভর চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিবারভিত্তিক সহযোগিতা, সহজলভ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় রোগ শনাক্তের সক্ষমতা।
মুখ ও জিহ্বা: তিন সপ্তাহেও না শুকানো ঘা অবহেলা নয়
মুখের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে জিহ্বা, ঠোঁট, মাড়ি, গালের ভেতরের অংশ কিংবা মুখগহ্বরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। মুখের ভেতরে কোনো ঘা তিন সপ্তাহেও না শুকালে, সাদা বা লাল দাগ দেখা দিলে, জিহ্বায় শক্ত চাকা তৈরি হলে কিংবা গিলতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে যারা ধূমপান, জর্দা, গুল, পান-সুপারি ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন, তাদের ঝুঁকি বেশি। এসব অভ্যাস মুখ ও গলার ক্যান্সারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তাই মুখের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে সাধারণ ঘা ভেবে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা উচিত নয়।
ফুসফুস: দীর্ঘদিনের কাশি ও কাশির সঙ্গে রক্ত
ফুসফুসের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। তবে দীর্ঘদিনের কাশি, পুরোনো কাশির ধরন বদলে যাওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বারবার ফুসফুসের সংক্রমণ এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
অনেকেই দীর্ঘদিন কাশি থাকলে শুধু কাশির ওষুধ ব্যবহার করেন। কিন্তু কাশি না কমলে, ক্রমশ বাড়লে কিংবা রক্ত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। তবে ধূমপান করেন না এমন ব্যক্তিরও ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে।
স্তন: ছোট চাকা কিংবা ত্বকের পরিবর্তনেও সতর্কতা
নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্তনে নতুন চাকা, বগলের নিচে অস্বাভাবিক ফোলা, স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন, ত্বক কুঁচকে যাওয়া, বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া কিংবা বোঁটা দিয়ে রক্তমিশ্রিত তরল বের হওয়া—এসব লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
অনেকে মনে করেন, স্তনে ব্যথা না থাকলে ক্যান্সারের আশঙ্কা নেই। এটি ভুল ধারণা। স্তনের ক্যান্সার অনেক সময় ব্যথা ছাড়াও হতে পারে। আবার স্তনের সব চাকা ক্যান্সার নয়। চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা, বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম, আলট্রাসনোগ্রাম এবং প্রয়োজন হলে বায়োপসির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।
নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। তাই পুরুষের স্তনে নতুন চাকা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলেও চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
পাকস্থলী ও খাদ্যনালি: গ্যাস্ট্রিক ভেবে বছরের পর বছর অবহেলা
পাকস্থলী ও খাদ্যনালির ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ সাধারণ হজমের সমস্যার মতো মনে হতে পারে। দীর্ঘদিনের বদহজম, খাবার গিলতে অসুবিধা, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া, বারবার বমি, পেটের ওপরের অংশে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া এসব রোগের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত।
বিশেষ করে খাবার গিলতে ক্রমাগত সমস্যা হলে, বমিতে রক্ত দেখা গেলে কিংবা কালো পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা নিজে নিজে গ্যাস্ট্রিক ধরে নিয়ে চিকিৎসা করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক এন্ডোস্কপি ও অন্যান্য পরীক্ষা করাতে পারেন।
বৃহদান্ত্র ও মলদ্বার: পায়খানার সঙ্গে রক্ত মানেই পাইলস নয়
পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে অনেকেই পাইলস মনে করে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু বৃহদান্ত্র বা মলদ্বারের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগেও রক্তপাত হতে পারে।
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, পায়খানার অভ্যাস পরিবর্তন, পেটব্যথা, পায়খানা করার পরও পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি, রক্তস্বল্পতা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
তাই পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে কিংবা দীর্ঘদিন মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বয়স ও পারিবারিক ঝুঁকি অনুযায়ী কোলনোস্কপি বা অন্যান্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
নারীদের জরায়ুমুখ: অস্বাভাবিক রক্তপাত সতর্কসংকেত
জরায়ুমুখের ক্যান্সার নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। রোগ অগ্রসর হলে মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত, সহবাসের পর রক্তপাত, মেনোপজের পর রক্তপাত, অস্বাভাবিক যোনিস্রাব এবং তলপেট বা কোমরে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে লজ্জা বা সংকোচ না করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। HPV পরীক্ষা ও প্যাপ টেস্টের মাধ্যমে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা শনাক্তের সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত বয়স ও চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী স্ক্রিনিং এবং HPV টিকা এ রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লিভার: জন্ডিস, পেট ফোলা ও অকারণে ওজন কমা
লিভারের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পেটের ডান পাশে ব্যথা বা অস্বস্তি, পেট ফুলে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা এবং চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তবে জন্ডিস হলেই ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। হেপাটাইটিস, পিত্তনালির সমস্যা এবং অন্যান্য রোগেও জন্ডিস হতে পারে। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিনের লিভার রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।
কিডনি ও মূত্রথলি: প্রস্রাবে রক্তকে কখনোই অবহেলা নয়
প্রস্রাবে রক্ত দেখা কিডনি ও মূত্রথলির বিভিন্ন রোগের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন কিংবা কোমরের এক পাশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও দেখা দিতে পারে।
প্রস্রাবে রক্ত যাওয়ার কারণ সংক্রমণ, পাথর কিংবা অন্য সমস্যাও হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা না করে কারণ নির্ধারণ করা যায় না। তাই একবার প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ত্বক: তিলের রং ও আকার বদলে গেলে সতর্ক হোন
ত্বকের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নতুন তিল, পুরোনো তিলের আকার বা রঙের পরিবর্তন, অসমান সীমানা, একাধিক রং, দ্রুত বড় হওয়া কিংবা দীর্ঘদিন না শুকানো ক্ষত দেখা দিতে পারে।
ত্বকের কোনো দাগ দ্রুত পরিবর্তিত হলে, রক্তপাত হলে কিংবা ক্ষত দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। বিশেষ করে শরীরের কোনো তিল অন্য তিলগুলোর তুলনায় অস্বাভাবিক দেখালে সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
মস্তিষ্ক: নতুন খিঁচুনি ও স্নায়বিক পরিবর্তন
মস্তিষ্কের টিউমার বা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের মাথাব্যথা, খিঁচুনি, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, ভারসাম্যহীনতা, কথা বলতে সমস্যা কিংবা স্মৃতিশক্তি ও আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
এসব লক্ষণের অনেক সাধারণ কারণ রয়েছে। তবে নতুন খিঁচুনি, হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
পুরুষদের প্রোস্টেট: বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রস্রাবের পরিবর্তন গুরুত্বের সঙ্গে দেখুন
প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। রোগ বাড়লে প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত এবং পরবর্তী পর্যায়ে হাড়ে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া বা অন্য রোগেও হতে পারে। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৪০:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

শরীরের নীরব সংকেত, অথচ ক্যান্সার ধরা পড়ে শেষ পর্যায়ে! মুখের ঘা, দীর্ঘদিনের কাশি, স্তনে চাকা, অস্বাভাবিক রক্তপাত—১১ অঙ্গের সতর্কসংকেত চিনে রাখুন, সময়মতো পরীক্ষা করান।

আপডেট সময় ১১:৪০:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শরীরের নীরব সংকেত, অথচ ক্যান্সার ধরা পড়ে শেষ পর্যায়ে!
মুখের ঘা থেকে ফুসফুসের কাশি, স্তনের চাকা থেকে প্রস্রাবে রক্ত—অবহেলায় বাড়ছে রোগ শনাক্তের ঝুঁকি; সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসাই হতে পারে জীবন বাঁচানোর প্রধান উপায়
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ক্যান্সার—একটি আতঙ্কের নাম। এই রোগের কথা শুনলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে মৃত্যু, দীর্ঘ চিকিৎসা, ব্যয়বহুল হাসপাতাল এবং পরিবারের অসহায়ত্বের ছবি। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ক্যান্সার এখন আর সব ক্ষেত্রে মৃত্যুর সমার্থক নয়। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অনেক ধরনের ক্যান্সার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। এমনকি কিছু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসারও সুযোগ রয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়, আমাদের সমাজে অসংখ্য মানুষ শরীরের প্রাথমিক সতর্কসংকেতগুলো বুঝতে না পেরে কিংবা অবহেলা করে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছান অনেক দেরিতে।
শরীর কখনো কখনো অসুস্থতার আগাম বার্তা দেয়। মুখের ভেতরে দীর্ঘদিনের ঘা, কাশির ধরন পরিবর্তন, স্তনে নতুন চাকা, পায়খানার সঙ্গে রক্ত, প্রস্রাবে রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক রক্তপাত—এসব পরিবর্তনকে অনেকে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে করেন। কেউ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খান, কেউ কাশির সিরাপ ব্যবহার করেন, কেউ আবার ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন। এভাবে দিনের পর দিন পার হয়ে যায়। একপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যখন ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন অনেক ক্ষেত্রে রোগটি শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চিকিৎসকদের কাছে তাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনকে দীর্ঘদিন অবহেলা না করা। তবে এটিও মনে রাখতে হবে, প্রতিটি ঘা, কাশি, ব্যথা বা চাকা ক্যান্সারের লক্ষণ নয়। এসব উপসর্গের পেছনে সাধারণ ও নিরাময়যোগ্য অনেক রোগও থাকতে পারে। পরীক্ষা ছাড়া ক্যান্সার নিশ্চিত করা যায় না।
কেন ক্যান্সার ধরা পড়ে দেরিতে?
ক্যান্সার শনাক্তে দেরির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, অনেক ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। দ্বিতীয়ত, যেসব উপসর্গ দেখা দেয়, সেগুলো অনেক সময় সাধারণ রোগের সঙ্গে মিলে যায়। তৃতীয়ত, মানুষের মধ্যে ক্যান্সার নিয়ে ভয়, সামাজিক সংকোচ, পরীক্ষা করানোর অনীহা এবং চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ কাজ করে।
বিশেষ করে গ্রামের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসুস্থতাকে অবহেলা করার প্রবণতা দেখা যায়। অনেকে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খান। সাময়িকভাবে ব্যথা বা অস্বস্তি কমে গেলে মনে করেন সমস্যা সেরে গেছে। কিন্তু রোগের মূল কারণ থেকে যেতে পারে।
আবার নারীদের ক্ষেত্রে স্তন বা জরায়ুমুখের সমস্যার কথা পরিবারের বাইরে বলতে সংকোচ কাজ করে। পুরুষদের মধ্যে প্রস্রাবের সমস্যা কিংবা প্রজনন অঙ্গের অসুস্থতা নিয়েও অনেক সময় লজ্জা দেখা যায়। এসব কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালনির্ভর চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা, পরিবারভিত্তিক সহযোগিতা, সহজলভ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় রোগ শনাক্তের সক্ষমতা।
মুখ ও জিহ্বা: তিন সপ্তাহেও না শুকানো ঘা অবহেলা নয়
মুখের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে জিহ্বা, ঠোঁট, মাড়ি, গালের ভেতরের অংশ কিংবা মুখগহ্বরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। মুখের ভেতরে কোনো ঘা তিন সপ্তাহেও না শুকালে, সাদা বা লাল দাগ দেখা দিলে, জিহ্বায় শক্ত চাকা তৈরি হলে কিংবা গিলতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে যারা ধূমপান, জর্দা, গুল, পান-সুপারি ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন, তাদের ঝুঁকি বেশি। এসব অভ্যাস মুখ ও গলার ক্যান্সারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তাই মুখের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে সাধারণ ঘা ভেবে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা উচিত নয়।
ফুসফুস: দীর্ঘদিনের কাশি ও কাশির সঙ্গে রক্ত
ফুসফুসের ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। তবে দীর্ঘদিনের কাশি, পুরোনো কাশির ধরন বদলে যাওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বারবার ফুসফুসের সংক্রমণ এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
অনেকেই দীর্ঘদিন কাশি থাকলে শুধু কাশির ওষুধ ব্যবহার করেন। কিন্তু কাশি না কমলে, ক্রমশ বাড়লে কিংবা রক্ত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। তবে ধূমপান করেন না এমন ব্যক্তিরও ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে।
স্তন: ছোট চাকা কিংবা ত্বকের পরিবর্তনেও সতর্কতা
নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্তনে নতুন চাকা, বগলের নিচে অস্বাভাবিক ফোলা, স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন, ত্বক কুঁচকে যাওয়া, বোঁটা ভেতরে ঢুকে যাওয়া কিংবা বোঁটা দিয়ে রক্তমিশ্রিত তরল বের হওয়া—এসব লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
অনেকে মনে করেন, স্তনে ব্যথা না থাকলে ক্যান্সারের আশঙ্কা নেই। এটি ভুল ধারণা। স্তনের ক্যান্সার অনেক সময় ব্যথা ছাড়াও হতে পারে। আবার স্তনের সব চাকা ক্যান্সার নয়। চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা, বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম, আলট্রাসনোগ্রাম এবং প্রয়োজন হলে বায়োপসির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।
নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। তাই পুরুষের স্তনে নতুন চাকা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলেও চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
পাকস্থলী ও খাদ্যনালি: গ্যাস্ট্রিক ভেবে বছরের পর বছর অবহেলা
পাকস্থলী ও খাদ্যনালির ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ সাধারণ হজমের সমস্যার মতো মনে হতে পারে। দীর্ঘদিনের বদহজম, খাবার গিলতে অসুবিধা, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া, বারবার বমি, পেটের ওপরের অংশে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া এসব রোগের সম্ভাব্য সতর্কসংকেত।
বিশেষ করে খাবার গিলতে ক্রমাগত সমস্যা হলে, বমিতে রক্ত দেখা গেলে কিংবা কালো পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা নিজে নিজে গ্যাস্ট্রিক ধরে নিয়ে চিকিৎসা করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক এন্ডোস্কপি ও অন্যান্য পরীক্ষা করাতে পারেন।
বৃহদান্ত্র ও মলদ্বার: পায়খানার সঙ্গে রক্ত মানেই পাইলস নয়
পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে অনেকেই পাইলস মনে করে চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু বৃহদান্ত্র বা মলদ্বারের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগেও রক্তপাত হতে পারে।
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, পায়খানার অভ্যাস পরিবর্তন, পেটব্যথা, পায়খানা করার পরও পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি, রক্তস্বল্পতা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
তাই পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে কিংবা দীর্ঘদিন মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বয়স ও পারিবারিক ঝুঁকি অনুযায়ী কোলনোস্কপি বা অন্যান্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
নারীদের জরায়ুমুখ: অস্বাভাবিক রক্তপাত সতর্কসংকেত
জরায়ুমুখের ক্যান্সার নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। রোগ অগ্রসর হলে মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত, সহবাসের পর রক্তপাত, মেনোপজের পর রক্তপাত, অস্বাভাবিক যোনিস্রাব এবং তলপেট বা কোমরে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে লজ্জা বা সংকোচ না করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। HPV পরীক্ষা ও প্যাপ টেস্টের মাধ্যমে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা শনাক্তের সুযোগ রয়েছে। উপযুক্ত বয়স ও চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী স্ক্রিনিং এবং HPV টিকা এ রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লিভার: জন্ডিস, পেট ফোলা ও অকারণে ওজন কমা
লিভারের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পেটের ডান পাশে ব্যথা বা অস্বস্তি, পেট ফুলে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা এবং চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তবে জন্ডিস হলেই ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। হেপাটাইটিস, পিত্তনালির সমস্যা এবং অন্যান্য রোগেও জন্ডিস হতে পারে। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণ লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিনের লিভার রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।
কিডনি ও মূত্রথলি: প্রস্রাবে রক্তকে কখনোই অবহেলা নয়
প্রস্রাবে রক্ত দেখা কিডনি ও মূত্রথলির বিভিন্ন রোগের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন কিংবা কোমরের এক পাশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও দেখা দিতে পারে।
প্রস্রাবে রক্ত যাওয়ার কারণ সংক্রমণ, পাথর কিংবা অন্য সমস্যাও হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা না করে কারণ নির্ধারণ করা যায় না। তাই একবার প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ত্বক: তিলের রং ও আকার বদলে গেলে সতর্ক হোন
ত্বকের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নতুন তিল, পুরোনো তিলের আকার বা রঙের পরিবর্তন, অসমান সীমানা, একাধিক রং, দ্রুত বড় হওয়া কিংবা দীর্ঘদিন না শুকানো ক্ষত দেখা দিতে পারে।
ত্বকের কোনো দাগ দ্রুত পরিবর্তিত হলে, রক্তপাত হলে কিংবা ক্ষত দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। বিশেষ করে শরীরের কোনো তিল অন্য তিলগুলোর তুলনায় অস্বাভাবিক দেখালে সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
মস্তিষ্ক: নতুন খিঁচুনি ও স্নায়বিক পরিবর্তন
মস্তিষ্কের টিউমার বা ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের মাথাব্যথা, খিঁচুনি, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া, ভারসাম্যহীনতা, কথা বলতে সমস্যা কিংবা স্মৃতিশক্তি ও আচরণে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
এসব লক্ষণের অনেক সাধারণ কারণ রয়েছে। তবে নতুন খিঁচুনি, হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
পুরুষদের প্রোস্টেট: বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রস্রাবের পরিবর্তন গুরুত্বের সঙ্গে দেখুন
প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। রোগ বাড়লে প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, রাতে বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত এবং পরবর্তী পর্যায়ে হাড়ে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া বা অন্য রোগেও হতে পারে। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।