. মহাসড়কে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কা, গজারিয়ায় নিহত ১৬ বছরের তরুণ; আহত বন্ধুর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঝরল ১৬ বছরের তরুণের প্রাণ, গুরুতর আহত আরও একজন
চর বাউশিয়া বড়কান্দি ব্রিজে অজ্ঞাত গাড়ির পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা—ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ নিতে পরিবারের আবেদন, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান
রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার :
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আকরামুল ইসলাম রহি (১৬) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আবু বক্কর (২০) নামে আরেক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার চর বাউশিয়া বড়কান্দি ব্রিজের ওপর মহাসড়কের কুমিল্লাগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো আকরামুল ইসলাম রহি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দলপুর গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিন শিকদারের ছেলে। আহত আবু বক্কর একই গ্রামের মতিন খানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে মোটরসাইকেলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লাগামী লেন দিয়ে দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। এ সময় সামনে চলমান একটি অজ্ঞাত গাড়ির পেছনে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে চালক আকরামুল ইসলাম গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আবু বক্করও গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহত যুবককে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। পরে তাঁকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ নেওয়ার উদ্যোগ
দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে পরিবার। গজারিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য অনাপত্তির ভিত্তিতে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তবে পরিবারের আবেদন করলেই ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তর করা যাবে—বিষয়টি এমন নয়। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মহাসড়কে সতর্কতার প্রয়োজন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করে। দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের যান একসঙ্গে চলাচল করায় চালকদের সতর্কতা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে সামনে চলমান ভারী বা ধীরগতির যানবাহনের পেছনে চলার সময় পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখা এবং গতি নিয়ন্ত্রণ করা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তবে গজারিয়ার এ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, মোটরসাইকেলটির প্রকৃত গতি এবং অজ্ঞাত গাড়িটির পরিচয় সম্পর্কে তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে আকরামুল ইসলামের মৃত্যু তাঁর পরিবার ও স্বজনদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। একই ঘটনায় আরেক যুবকের গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টিও সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।
এ দুর্ঘটনার পর অজ্ঞাত গাড়িটির পরিচয় শনাক্ত, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক তথ্যের ভিত্তিতেই দুর্ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।
প্রতিবেদন প্রস্তুত পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহতের পরিবারের আবেদন এবং মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




















