পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে নদীতে গোসল, প্রাণ গেল সাত বছরের রাফির
গজারিয়ায় ফুলদী নদীতে নিখোঁজ শিশু রাফির মরদেহ উদ্ধার
পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজ, ১৭ ঘণ্টা পর ভেসে উঠল শিশুর নিথর দেহ
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ফুলদী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর সাত বছর বয়সী শিশু মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকী রাফির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মধ্য ভাটের চর এলাকায় নদীতে শিশুটির মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে ফুলদী নদীতে গোসল করতে নেমেছিল রাফি। একপর্যায়ে চার বন্ধু সাঁতরে নদী থেকে তীরে উঠে আসতে পারলেও রাফি আর ফিরে আসেনি। কিছুক্ষণ পর তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্বজন ও স্থানীয় লোকজন নদীর পাড়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে খবর পেয়ে গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান শুরু করে। শিশুটিকে উদ্ধারে পরে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ডুবুরি দলও অভিযানে যোগ দেয়। নদীতে তল্লাশি চালিয়েও শনিবার শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রোববার সকালে ডুবুরি দলের অভিযান শুরুর প্রস্তুতিকালে নদীতে শিশুটির মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পাওয়া যায়। মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম পিএফএম এ তথ্য জানান।
নিহত রাফির বাবা খায়রুল ইসলাম। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গজারিয়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন তিনি। তাঁদের স্থায়ী বাড়ি নড়াইল জেলায়।
অল্প বয়সী সন্তানকে হারিয়ে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নদীতে গোসল করতে গিয়ে শিশুটির এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে স্থানীয়দের মধ্যেও শোক বিরাজ করছে।
শিশুদের নদীতে গোসল: সতর্কতার প্রয়োজন
বর্ষা-পরবর্তী সময়ে নদী, খাল ও জলাশয়ে স্রোত, গভীরতা এবং তলদেশের অবস্থা অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। সাঁতার জানলেও শিশুদের জন্য এসব জলাশয়ে গোসল করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া শিশুদের নদীতে নামা বিপজ্জনক।
রাফির মৃত্যুর ঘটনা শিশুদের পানিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে শিশুদের পানিতে নামার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ স্থানে গোসলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
সাত বছরের রাফির মৃত্যুতে একটি পরিবার হারাল তাদের আদরের সন্তানকে। নদীতে গোসল করতে নেমে তার এই অকালমৃত্যু স্থানীয় মানুষের মনে গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।











