ঢাকা ১১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেড়াতে এসে পায়রা নদীতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর

নিজস্ব সংবাদ :

পায়রা নদীতে বেড়াতে এসে করুণ পরিণতি, ৩৩ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বরগুনার পায়রা নদীতে স্বজনদের সঙ্গে বেড়াতে এসে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছে রাবেয়া আক্তার জুঁই (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী। নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর সোমবার বিকেলে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জুঁই ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা জনি চৌধুরী ও তাসলিমা দম্পতির মেয়ে। সে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে বরগুনায় গিয়ে এমন করুণ পরিণতির শিকার হওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা গেছে, গত রোববার সকালে ঢাকার মিরপুর থেকে দূরসম্পর্কের এক স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে বরগুনায় যায় জুঁই। পরে স্বজনদের সঙ্গে লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীতে গোসল করতে নামে সে। সাঁতার না জানায় নদীর স্রোতের মধ্যে পড়ে বিপদে পড়ে জুঁই। মুহূর্তের মধ্যেই সে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়।
কিশোরী নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। পরে বরগুনা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা যৌথভাবে নদীতে অভিযান চালান। উদ্ধার অভিযানে পটুয়াখালী থেকে বিশেষ ডুবুরি দলও যুক্ত হয়।
তবে পায়রা নদীতে তখন জোয়ারের প্রবল স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালিয়েও প্রথম দিন ও রাতে জুঁইয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে অপেক্ষা করতে থাকেন, আর প্রতিটি মুহূর্তে বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা।
এরই মধ্যে নিখোঁজের প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর সোমবার বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার ছোনবুনিয়া এলাকার পায়রা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। পরে মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রী জুঁইয়ের বলে শনাক্ত করা হয়।
ঢাকা থেকে বরগুনায় বেড়াতে এসে একটি পরিবারের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। জুঁইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। যে নদীকে ঘিরে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করার কথা ছিল, সেই নদীই কেড়ে নিল তাদের প্রিয়জনকে।
বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাচনাইন পারভেজ জানান, জুঁই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নদীতে তৎপর ছিলেন। দীর্ঘ ৩৩ ঘণ্টা পর ছোনবুনিয়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় আবারও নদী বা খালে গোসলের সময় বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। সাঁতার না জানা অবস্থায় প্রবল স্রোতের নদীতে নামা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, জুঁইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু তারই একটি হৃদয়বিদারক উদাহরণ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

বেড়াতে এসে পায়রা নদীতে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর

আপডেট সময় ০৯:০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

পায়রা নদীতে বেড়াতে এসে করুণ পরিণতি, ৩৩ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
বরগুনার পায়রা নদীতে স্বজনদের সঙ্গে বেড়াতে এসে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছে রাবেয়া আক্তার জুঁই (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী। নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর সোমবার বিকেলে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জুঁই ঢাকার মিরপুর এলাকার বাসিন্দা জনি চৌধুরী ও তাসলিমা দম্পতির মেয়ে। সে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্বজনদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে বরগুনায় গিয়ে এমন করুণ পরিণতির শিকার হওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা গেছে, গত রোববার সকালে ঢাকার মিরপুর থেকে দূরসম্পর্কের এক স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে বরগুনায় যায় জুঁই। পরে স্বজনদের সঙ্গে লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীতে গোসল করতে নামে সে। সাঁতার না জানায় নদীর স্রোতের মধ্যে পড়ে বিপদে পড়ে জুঁই। মুহূর্তের মধ্যেই সে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়।
কিশোরী নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। পরে বরগুনা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা যৌথভাবে নদীতে অভিযান চালান। উদ্ধার অভিযানে পটুয়াখালী থেকে বিশেষ ডুবুরি দলও যুক্ত হয়।
তবে পায়রা নদীতে তখন জোয়ারের প্রবল স্রোত থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালিয়েও প্রথম দিন ও রাতে জুঁইয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে অপেক্ষা করতে থাকেন, আর প্রতিটি মুহূর্তে বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা।
এরই মধ্যে নিখোঁজের প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর সোমবার বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার ছোনবুনিয়া এলাকার পায়রা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। পরে মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রী জুঁইয়ের বলে শনাক্ত করা হয়।
ঢাকা থেকে বরগুনায় বেড়াতে এসে একটি পরিবারের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। জুঁইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। যে নদীকে ঘিরে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করার কথা ছিল, সেই নদীই কেড়ে নিল তাদের প্রিয়জনকে।
বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাচনাইন পারভেজ জানান, জুঁই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নদীতে তৎপর ছিলেন। দীর্ঘ ৩৩ ঘণ্টা পর ছোনবুনিয়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় আবারও নদী বা খালে গোসলের সময় বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। সাঁতার না জানা অবস্থায় প্রবল স্রোতের নদীতে নামা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, জুঁইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু তারই একটি হৃদয়বিদারক উদাহরণ।