ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারত সফরে তারেক রহমান!

নিজস্ব সংবাদ :

আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা, নতুন সমীকরণের বার্তা দিতে পারেন তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের শেষার্ধে ভারত সফর করতে পারেন—এমন সম্ভাবনা ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য এই সফরের তারিখ ও পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মহলে সফরটি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
সফরটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য এই সফরকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সম্ভাব্য দুই দিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আসতে পারে।
টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দেয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের মাটিতে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও ঢাকার পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ইস্যু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক ও যোগাযোগের মধ্য দিয়ে সম্পর্ককে আবারও কার্যকর ও স্থিতিশীল পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরকে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনার সম্ভাবনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বাণিজ্য ও জ্বালানি
বাংলাদেশের জন্য ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ থাকলেও বাণিজ্য ভারসাম্য, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, সীমান্তবাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনের মতো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এসব বিষয় নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি, বিদ্যুৎ সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
যোগাযোগ খাতও হতে পারে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক করিডোর ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে দুই দেশের আগ্রহ রয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন সমঝোতার উদ্যোগ আসতে পারে।
পানি বণ্টন নিয়ে নতুন আলোচনা
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় পানি বণ্টন। বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলে আসছে।
১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি আগামী দিনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বাংলাদেশের জন্য অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। তাই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে পানি বণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হতে পারে।
এর পাশাপাশি তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব
দুই দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটারের বেশি স্থলসীমান্ত রয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা, সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান, অবৈধ পারাপার এবং সীমান্তবর্তী মানুষের স্বার্থ—এসব বিষয়ও নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় থাকে।
সম্ভাব্য সফরে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তে প্রাণহানি কমানো এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও মানবিক ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিও আলোচনায়
বর্তমান দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয়ও দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ
এরই মধ্যে নয়াদিল্লি আগামী সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনের বহির্মুখী অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে তারেক রহমান সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
যদি সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে সমন্বয়ের নতুন সুযোগ পেতে পারে।
নতুন বার্তা দিতে পারে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঘটনা হতে পারে। সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পর উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হলে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, পানি, সীমান্ত, জ্বালানি ও যোগাযোগের মতো দীর্ঘদিনের বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।
তবে সফরের তারিখ, কর্মসূচি এবং বৈঠকের আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় এ মুহূর্তে পুরো বিষয়টিকে সম্ভাব্য সফর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সফরটি বাস্তবে অনুষ্ঠিত হলে এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হবে—দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগকে নতুন করে সক্রিয় করা। ঢাকা ও নয়াদিল্লি যদি পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে সম্ভাব্য এই সফর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৩:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
২ বার পড়া হয়েছে

ভারত সফরে তারেক রহমান!

আপডেট সময় ০৩:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাবনা, নতুন সমীকরণের বার্তা দিতে পারেন তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের শেষার্ধে ভারত সফর করতে পারেন—এমন সম্ভাবনা ঘিরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য এই সফরের তারিখ ও পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত না হলেও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মহলে সফরটি নিয়ে প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
সফরটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য এই সফরকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সম্ভাব্য দুই দিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে আসতে পারে।
টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দেয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের মাটিতে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও ঢাকার পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ইস্যু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক ও যোগাযোগের মধ্য দিয়ে সম্পর্ককে আবারও কার্যকর ও স্থিতিশীল পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরকে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনার সম্ভাবনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বাণিজ্য ও জ্বালানি
বাংলাদেশের জন্য ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ থাকলেও বাণিজ্য ভারসাম্য, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, সীমান্তবাণিজ্য এবং পণ্য পরিবহনের মতো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে এসব বিষয় নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি, বিদ্যুৎ সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
যোগাযোগ খাতও হতে পারে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক করিডোর ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে দুই দেশের আগ্রহ রয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে নতুন সমঝোতার উদ্যোগ আসতে পারে।
পানি বণ্টন নিয়ে নতুন আলোচনা
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় পানি বণ্টন। বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলে আসছে।
১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন হওয়ায় বিষয়টি আগামী দিনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বাংলাদেশের জন্য অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু। তাই সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে পানি বণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হতে পারে।
এর পাশাপাশি তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব
দুই দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটারের বেশি স্থলসীমান্ত রয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা, সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান, অবৈধ পারাপার এবং সীমান্তবর্তী মানুষের স্বার্থ—এসব বিষয়ও নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় থাকে।
সম্ভাব্য সফরে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্তে প্রাণহানি কমানো এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও মানবিক ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিও আলোচনায়
বর্তমান দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নয়। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয়ও দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ
এরই মধ্যে নয়াদিল্লি আগামী সেপ্টেম্বরের ব্রিকস সম্মেলনের বহির্মুখী অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে তারেক রহমান সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
যদি সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে সমন্বয়ের নতুন সুযোগ পেতে পারে।
নতুন বার্তা দিতে পারে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ককে
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঘটনা হতে পারে। সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের পর উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হলে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি কমানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, পানি, সীমান্ত, জ্বালানি ও যোগাযোগের মতো দীর্ঘদিনের বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।
তবে সফরের তারিখ, কর্মসূচি এবং বৈঠকের আলোচ্যসূচি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় এ মুহূর্তে পুরো বিষয়টিকে সম্ভাব্য সফর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সফরটি বাস্তবে অনুষ্ঠিত হলে এর সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হবে—দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগকে নতুন করে সক্রিয় করা। ঢাকা ও নয়াদিল্লি যদি পারস্পরিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে সম্ভাব্য এই সফর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।