ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

. ধর্ম-বর্ণের বিভেদ নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: মানিকগঞ্জে খাদ্যমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :

পূজামণ্ডপে মুসলিমদের উপস্থিতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের বার্তা খাদ্যমন্ত্রীর; জনপ্রতিনিধিদের জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক :
মানিকগঞ্জ: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানই বাংলাদেশের সামাজিক ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি। দুর্গাপূজার মণ্ডপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মানিকগঞ্জের বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ধর্মীয় উৎসবের সামাজিক তাৎপর্য, রাজনৈতিক বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব এবং স্থানীয় উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা। তাঁর মতে, একটি এলাকার প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে সেখানকার মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতার ওপর।
সম্প্রীতির বন্ধনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান
আফরোজা খানম রিতা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রেখে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি না করে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
দুর্গাপূজার মতো ধর্মীয় উৎসব কেবল একটি সম্প্রদায়ের আনন্দ-উৎসব নয়; এটি পারস্পরিক পরিচিতি, সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতি জোরদার করারও একটি সুযোগ। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একে অন্যের উৎসবের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন সামাজিক আস্থাকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতার চর্চা সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তাৎপর্যও এখানেই—ধর্মীয় পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরির কারণ না হয়; বরং ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই যেন এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন।
জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব জনগণের সেবা
জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের সেবা করাই তাঁদের মূল দায়িত্ব। ব্যক্তিগত বিরোধ, দলীয় বিভেদ কিংবা পারস্পরিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
তাঁর এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতপার্থক্যের কারণে যেন সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত না হন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন।
জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের অভিযোগ শোনা, সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাজনৈতিক পথচলা ও মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আফরোজা খানম রিতা জানান, গত ১৭ বছর মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের অবদানেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। এ জন্য তিনি মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মানুষের এই সমর্থন ও ভালোবাসার প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা তাঁকে দায়িত্ব পালনে জবাবদিহির মধ্যে রাখবে।
রাজনৈতিক জীবনে মানুষের সমর্থনকে দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি জনসেবার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটার ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, নাগরিক সমস্যা সমাধান এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়েই জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন।
ইউপি নির্বাচন: যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বেছে নেওয়ার আহ্বান
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টাকার প্রলোভনে না পড়ে যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণে আগ্রহী ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা উচিত।
তাঁর মতে, ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে যেন সাধারণ মানুষ ও এলাকার উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা আর্থিক প্রলোভনের পরিবর্তে সততা, যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও কাজ করার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ
মানিকগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের মূল সুর ছিল সামাজিক সম্প্রীতি, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করা। ধর্মীয় উৎসবে ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখা শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য জরুরি।
তবে সম্প্রীতির বার্তা বাস্তবে কার্যকর করতে শুধু বক্তব্যই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা, গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য সম্পর্কে সতর্কতা এবং যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্যোগ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আয়োজক কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি এবং যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মানিকগঞ্জসহ দেশের প্রতিটি এলাকায় এই মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত থাকলে সামাজিক আস্থা জোরদার এবং জনকল্যাণমুখী উন্নয়নের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ০৯:৪৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

. ধর্ম-বর্ণের বিভেদ নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: মানিকগঞ্জে খাদ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৪৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পূজামণ্ডপে মুসলিমদের উপস্থিতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
ধর্মীয় সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের বার্তা খাদ্যমন্ত্রীর; জনপ্রতিনিধিদের জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক :
মানিকগঞ্জ: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানই বাংলাদেশের সামাজিক ঐক্যের অন্যতম ভিত্তি। দুর্গাপূজার মণ্ডপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) মানিকগঞ্জের বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ধর্মীয় উৎসবের সামাজিক তাৎপর্য, রাজনৈতিক বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব এবং স্থানীয় উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা। তাঁর মতে, একটি এলাকার প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে সেখানকার মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতার ওপর।
সম্প্রীতির বন্ধনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান
আফরোজা খানম রিতা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রেখে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি না করে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
দুর্গাপূজার মতো ধর্মীয় উৎসব কেবল একটি সম্প্রদায়ের আনন্দ-উৎসব নয়; এটি পারস্পরিক পরিচিতি, সামাজিক বন্ধন ও সম্প্রীতি জোরদার করারও একটি সুযোগ। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের একে অন্যের উৎসবের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন সামাজিক আস্থাকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতার চর্চা সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তাৎপর্যও এখানেই—ধর্মীয় পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরির কারণ না হয়; বরং ভিন্নতা সত্ত্বেও সবাই যেন এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন।
জনপ্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব জনগণের সেবা
জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের সেবা করাই তাঁদের মূল দায়িত্ব। ব্যক্তিগত বিরোধ, দলীয় বিভেদ কিংবা পারস্পরিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
তাঁর এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতপার্থক্যের কারণে যেন সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত না হন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন।
জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের অভিযোগ শোনা, সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাজনৈতিক পথচলা ও মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আফরোজা খানম রিতা জানান, গত ১৭ বছর মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের অবদানেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। এ জন্য তিনি মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, মানুষের এই সমর্থন ও ভালোবাসার প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা তাঁকে দায়িত্ব পালনে জবাবদিহির মধ্যে রাখবে।
রাজনৈতিক জীবনে মানুষের সমর্থনকে দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি জনসেবার ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভোটার ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, নাগরিক সমস্যা সমাধান এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়েই জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন।
ইউপি নির্বাচন: যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বেছে নেওয়ার আহ্বান
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টাকার প্রলোভনে না পড়ে যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণে আগ্রহী ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা উচিত।
তাঁর মতে, ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে যেন সাধারণ মানুষ ও এলাকার উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা আর্থিক প্রলোভনের পরিবর্তে সততা, যোগ্যতা, জনসম্পৃক্ততা ও কাজ করার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ
মানিকগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের মূল সুর ছিল সামাজিক সম্প্রীতি, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করা। ধর্মীয় উৎসবে ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ বজায় রাখা শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য জরুরি।
তবে সম্প্রীতির বার্তা বাস্তবে কার্যকর করতে শুধু বক্তব্যই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা, গুজব ও উসকানিমূলক বক্তব্য সম্পর্কে সতর্কতা এবং যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্যোগ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আয়োজক কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি এবং যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মানিকগঞ্জসহ দেশের প্রতিটি এলাকায় এই মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত থাকলে সামাজিক আস্থা জোরদার এবং জনকল্যাণমুখী উন্নয়নের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।