সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের সম্পদ, কোনো দলের নয়: প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাস-এ সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বাহিনীকে বিতর্কিত করার নানা প্রচেষ্টা দেখা গেছে।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটসহ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীর ভূমিকা আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সময় থেকেই সেনাবাহিনীর মধ্যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।
এছাড়া, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অবদান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শুধু সশস্ত্র বাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি খাতে সংস্কার এবং জনগণের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার একটি রূপান্তরমূলক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।



















