অভিযোগে বলা হয়, ফরহাদকে সৌদি আরবে নেওয়ার পর প্রায় তিন মাস কোনো কাজ না দিয়ে অমানবিকভাবে কষ্ট দেওয়া হয়। ইকামা করে দেওয়ার কথা বলে আবারও টাকা দাবি করা হলে পরিবারের সদস্যরা ঋণ করে আরও ৪ লাখ টাকা পাঠান।
সৌদি পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে সর্বস্ব লুট, দালালের কাছে ‘বিক্রি’ যুবক
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সৌদি আরবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া এবং এক যুবককে দালালদের কাছে ‘বিক্রি’ করে আটকে রাখার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সন্তানের জীবন নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে মা আছিয়া বেগমের।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে আছিয়া বেগম জানান, উপজেলার উত্তর রাঢ়ীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ছেলেকে ভালো ভবিষ্যৎ গড়তে সৌদি আরবে পাঠানোর আশায় মামাতো ভাই শেখ ফরিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ফরিদ ভালো ভিসার আশ্বাস দিলে প্রথমে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে পাসপোর্ট, মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র করতে আরও ৩৬ হাজার টাকা খরচ হয়। এরপর নানা অজুহাতে ধাপে ধাপে আরও ৪ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ফরহাদকে সৌদি আরবে নেওয়ার পর প্রায় তিন মাস কোনো কাজ না দিয়ে অমানবিকভাবে কষ্ট দেওয়া হয়। ইকামা করে দেওয়ার কথা বলে আবারও টাকা দাবি করা হলে পরিবারের সদস্যরা ঋণ করে আরও ৪ লাখ টাকা পাঠান।
আছিয়া বেগমের দাবি, পরে অভিযুক্তদের কু-পরামর্শে তার ছেলেকে সৌদির দালালদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ফরহাদ সাত দিন নিখোঁজ থাকার পর তার ইমু আইডি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থার একটি ছবি পরিবারের কাছে পাঠানো হয়। বার্তায় বলা হয়, ৫ লাখ টাকা না দিলে তাকে হ*ত্যা করা হবে। বর্তমানে তার ছেলে দালালদের কাছে আটক রয়েছে বলে পরিবার আশঙ্কা করছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, বিদেশে চাকরির প্রলোভনে এমন প্রতারণা রোধে কঠোর নজরদারি জরুরি।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ছানাউল্লাহ সরকার বলেন, একটি অসহায় পরিবারের সঙ্গে এমন নির্মম প্রতারণা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ছেলেটিকে উদ্ধারের দাবি জানাই।
মো. নুরুজ্জামান বলেন, বিদেশে পাঠানোর নামে যদি মানুষকে এভাবে বিক্রি করা হয়, তাহলে এটি শুধু প্রতারণা নয়, মানবপাচারের শামিল। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
ছেলের কথা বলতে গিয়ে বারবার ভেঙে পড়েন আছিয়া বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ছেলেকে মানুষের মতো মানুষ করতে চেয়েছিলাম। জমির দলিল বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছি। এখন শুধু চাই আমার ছেলেটা জীবিত ফিরে আসুক। আমি প্রশাসনের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আমার সন্তানকে উদ্ধার করুন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মানবপাচার বা প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রবাসে আটকে থাকা যুবককে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

















