ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০২৫ সালে সমুদ্র ও বিভিন্ন অনিয়মিত পথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভূমধ্যসাগর পথেই অবৈধভাবে ইউরোপে ঢুকেছেন ৬৬ হাজার ৩২৮ জন।

ইউরোপে অবৈধ প্রবেশ কমলেও ভূমধ্যসাগর রুটে শীর্ষে বাংলাদেশিরা: ফ্রন্টেক্স রিপোর্ট

রোজ খবর ডেস্ক

ইউরোপে সমুদ্রপথ ও বলকান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের সংখ্যা ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা Frontex-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় এই প্রবেশ কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ। তবে ভূমধ্যসাগর রুট দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যে শীর্ষে ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০২৫ সালে সমুদ্র ও বিভিন্ন অনিয়মিত পথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভূমধ্যসাগর পথেই অবৈধভাবে ইউরোপে ঢুকেছেন ৬৬ হাজার ৩২৮ জন।

ফ্রন্টেক্সের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, এই অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল মিসর এবং তৃতীয় স্থানে ইরিত্রিয়ার নাগরিকরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের তুলনায় অবৈধ অভিবাসনের এই সংখ্যা অর্ধেকেরও কম এবং ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন। তবে ফ্রন্টেক্স সতর্ক করে জানিয়েছে, ইউরোপের সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানব পাচারকারী চক্রের তৎপরতার কারণে যেকোনো সময় অভিবাসনের চাপ এক রুট থেকে অন্য রুটে সরে যেতে পারে।

ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর রুট ছিল ইউরোপে প্রবেশের সবচেয়ে ব্যস্ত পথ। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ইতালির দিকে যাত্রায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।

অন্যদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম বলকান রুট দিয়ে ইউরোপে অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনাও কমেছে। তবে পূর্ব লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে প্রবেশের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। এই পথে ৫১ হাজার ৩৯৯ জন ইউরোপে প্রবেশ করেছেন, যাদের অধিকাংশই আফগানিস্তান, সুদান ও মিসরের নাগরিক।

এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকা রুটেও সামগ্রিকভাবে অনিয়মিত অভিবাসনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। পশ্চিম ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যে আলজেরিয়া, সোমালিয়া ও মরক্কোর নাগরিকদের সংখ্যা ছিল বেশি।

ফ্রন্টেক্স আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী জুন মাস থেকে নতুন মাইগ্রেশন ও আশ্রয় চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হবে। একই সঙ্গে চালু হবে নতুন এন্ট্রি-এক্সিট ব্যবস্থা এবং ভ্রমণ অনুমোদন পদ্ধতি।

সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, সমুদ্রপথে অভিবাসনের সংখ্যা কমলেও ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। International Organization for Migration-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পথে অন্তত ১ হাজার ৮৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১২:১১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
১৬২ বার পড়া হয়েছে

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০২৫ সালে সমুদ্র ও বিভিন্ন অনিয়মিত পথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভূমধ্যসাগর পথেই অবৈধভাবে ইউরোপে ঢুকেছেন ৬৬ হাজার ৩২৮ জন।

ইউরোপে অবৈধ প্রবেশ কমলেও ভূমধ্যসাগর রুটে শীর্ষে বাংলাদেশিরা: ফ্রন্টেক্স রিপোর্ট

আপডেট সময় ১২:১১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইউরোপে সমুদ্রপথ ও বলকান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের সংখ্যা ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা Frontex-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় এই প্রবেশ কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ। তবে ভূমধ্যসাগর রুট দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যে শীর্ষে ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিকরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০২৫ সালে সমুদ্র ও বিভিন্ন অনিয়মিত পথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ভূমধ্যসাগর পথেই অবৈধভাবে ইউরোপে ঢুকেছেন ৬৬ হাজার ৩২৮ জন।

ফ্রন্টেক্সের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, এই অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল মিসর এবং তৃতীয় স্থানে ইরিত্রিয়ার নাগরিকরা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের তুলনায় অবৈধ অভিবাসনের এই সংখ্যা অর্ধেকেরও কম এবং ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন। তবে ফ্রন্টেক্স সতর্ক করে জানিয়েছে, ইউরোপের সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানব পাচারকারী চক্রের তৎপরতার কারণে যেকোনো সময় অভিবাসনের চাপ এক রুট থেকে অন্য রুটে সরে যেতে পারে।

ফ্রন্টেক্স জানায়, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর রুট ছিল ইউরোপে প্রবেশের সবচেয়ে ব্যস্ত পথ। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ইতালির দিকে যাত্রায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।

অন্যদিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও পশ্চিম বলকান রুট দিয়ে ইউরোপে অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনাও কমেছে। তবে পূর্ব লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে প্রবেশের সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। এই পথে ৫১ হাজার ৩৯৯ জন ইউরোপে প্রবেশ করেছেন, যাদের অধিকাংশই আফগানিস্তান, সুদান ও মিসরের নাগরিক।

এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকা রুটেও সামগ্রিকভাবে অনিয়মিত অভিবাসনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। পশ্চিম ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারীদের মধ্যে আলজেরিয়া, সোমালিয়া ও মরক্কোর নাগরিকদের সংখ্যা ছিল বেশি।

ফ্রন্টেক্স আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী জুন মাস থেকে নতুন মাইগ্রেশন ও আশ্রয় চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হবে। একই সঙ্গে চালু হবে নতুন এন্ট্রি-এক্সিট ব্যবস্থা এবং ভ্রমণ অনুমোদন পদ্ধতি।

সংস্থাটি সতর্ক করে জানায়, সমুদ্রপথে অভিবাসনের সংখ্যা কমলেও ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। International Organization for Migration-এর হিসাবে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পথে অন্তত ১ হাজার ৮৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।