এর আগে গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃ*্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। একই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
জুলাই–আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃ্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ৪৫৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃ*্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। একই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ও অপরাধের বিবরণ
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়।
অভিযোগ–১ (উসকানি ও প্ররোচনা):
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে সম্বোধনের মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দেওয়ার নির্দেশ ও প্ররোচনার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। আদালতের মতে, এর চূড়ান্ত পরিণতিতে রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে নিহত করা হয়। এ অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযোগ–২ (সরাসরি হ*ত্যার নির্দেশ):
১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও হাসানুল হক ইনুর কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এর ফলস্বরূপ ৫ আগস্ট চানখারপুলে ছয়জন এবং আশুলিয়ায় ছয়জন ব্যক্তিকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর মতো নৃশংস ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃ্যুদণ্ড (ফাঁসি) প্রদান করা হয়।
রায়ে আরও বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে থাকা সব সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করবে এবং সেই অর্থ ও সম্পদ জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণে ব্যয় করা হবে।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন এক ধাপে প্রবেশ করল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।




















