গ্রে*তার হওয়া ইয়াসিন আরাফাত ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ি কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে।
দিপু দাস হত্যা: লাশ পোড়ানোর ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া ইয়াসিন গ্রে*তার
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস (২৮)কে পিটিয়ে হত্যা ও পরে লাশ পোড়িয়ে ফেলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া ইয়াসিন আরাফাত (২৫)কে গ্রেতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ডিবি পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রে*তার করা হয়।
গ্রে*তার হওয়া ইয়াসিন আরাফাত ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ি কড়ইতলা মোড় এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। তিনি ভালুকার কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমামতি করতেন এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দিপু চন্দ্র দাস হ*ত্যাকাণ্ডে অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে ইয়াসিন আরাফাত সরাসরি নেতৃত্ব দেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। প্রায় ১২ দিন পলাতক অবস্থায় ঢাকার ডেমরা এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি ‘সুফফা’ নামের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন কারখানার গেটে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং অন্যান্য গ্রেতার হওয়া আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে ইয়াসিন আরাফাতের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ডিএমপির সহযোগিতায় তাকে গ্রেতার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রে*তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে কারখানা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সে সময় দিপু চন্দ্র দাস কারখানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। রাত ৯টার দিকে কারখানা থেকে বের হলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃ*ত্যু হয়।
পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, দিপু দাস হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন আসামিকে গ্রেতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং ৯ জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। ইতোমধ্যে ১৮ জন আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।










