ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রিসিলা ফাতিমার মন্তব্য প্রতিবেদন

বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ঘটনাবহুল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি

ফাতিমা নাজনীন প্রিসিলা

বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ, বৈচিত্র্যময় ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ৮০ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও রেখে গেলেন আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনিবার্য ছাপ। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে রাজনীতিতে আসলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর স্বল্প সময়ের জন্য দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তিন মেয়াদে তাঁর শাসনামল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচিত, সমালোচিত এবং একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন এক সংগ্রামী নারী—স্বামী হারানোর শোক, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কারাবাস, সন্তান হারানোর বেদনা এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও তিনি রাজনীতির ময়দান ছাড়েননি। দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৈরি হলো এক শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক নেত্রী, বিরোধী রাজনীতির প্রতীক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০১:২৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
১৩৫ বার পড়া হয়েছে

প্রিসিলা ফাতিমার মন্তব্য প্রতিবেদন

বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ঘটনাবহুল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি

আপডেট সময় ০১:২৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ, বৈচিত্র্যময় ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ৮০ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও রেখে গেলেন আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনিবার্য ছাপ। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে রাজনীতিতে আসলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব নেতৃত্ব, দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা দিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর স্বল্প সময়ের জন্য দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তিন মেয়াদে তাঁর শাসনামল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচিত, সমালোচিত এবং একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন এক সংগ্রামী নারী—স্বামী হারানোর শোক, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কারাবাস, সন্তান হারানোর বেদনা এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও তিনি রাজনীতির ময়দান ছাড়েননি। দীর্ঘদিন ধরে লিভার, কিডনি, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৈরি হলো এক শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ইতিহাস তাঁকে মনে রাখবে একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক নেত্রী, বিরোধী রাজনীতির প্রতীক এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে।