বরিশালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে মাদকের আড্ডা! প্রশাসন কি অন্ধ, নাকি অপরাধীদের কাছে অসহায়? যুবসমাজ রক্ষায় এখনই চাই কঠোর অভিযান
বরিশালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে মাদকের আড্ডা! প্রশাসন কি দেখেও দেখছে না, নাকি নজরদারির ভয়াবহ ঘাটতি?
আলেকান্দা নুরিয়া স্কুলের ছাদে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদকসেবীদের অবস্থানের অভিযোগ, পাশের কাজী অফিসের ছাদ দিয়ে যাতায়াতের দাবি এলাকাবাসীর; শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় অবিলম্বে তদন্ত, অভিযান ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল নগরীর আলেকান্দা এলাকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উঠেছে উদ্বেগজনক অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, আলেকান্দা নুরিয়া স্কুলের ছাদে প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছু যুবকের আনাগোনা ও মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। অভিযোগ রয়েছে, পাশের একটি কাজী অফিসের ছাদ ব্যবহার করে কয়েকজন যুবক স্কুলের ছাদে যাতায়াত করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ যদি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোথায়? স্কুল পরিচালনা কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং শিক্ষা বিভাগের নজরদারি কতটা কার্যকর?
স্থানীয়দের অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির নামও আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত এক ব্যক্তি রন্টি এবং তাঁর স্ত্রীর সহযোগীদের বিষয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে?
একটি স্কুল শুধু চার দেয়ালের মধ্যে পাঠদানের স্থান নয়; এটি একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কেন্দ্র। সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে যদি মাদকসেবীদের আড্ডা বসার অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা নিছক আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়—এটি সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়।
আজ যারা স্কুলের আশপাশে মাদকের আড্ডা গড়ে তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের কর্মকাণ্ডের প্রভাব আশপাশের কিশোর-তরুণদের ওপর পড়তে পারে। মাদকের সহজলভ্যতা ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ একটি সম্ভাবনাময় তরুণকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আমরা এমন বরিশাল চাই না, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে মাদকের আড্ডা বসবে আর অভিভাবকদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে।
প্রশাসনের প্রতি কঠোর প্রশ্ন—দেখার কেউ কি নেই?
এলাকাবাসীর অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমন কর্মকাণ্ড কীভাবে চলতে পারে? স্কুলের ছাদে কারা প্রবেশ করছে, কোন পথে প্রবেশ করছে, কারা তাদের সহযোগিতা করছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা কি প্রশাসনের দায়িত্ব নয়?
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, সংশ্লিষ্ট থানা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছে প্রশ্ন—অভিযোগ পাওয়ার পরও যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা পাবে কোথায়?
প্রশাসন কি বিষয়টি জানে না? নাকি জানার পরও কার্যকর নজরদারি নেই?
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হয়রানি নয়, বরং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মাদক কারবারি, সরবরাহকারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। স্কুলের ছাদ, আশপাশের ভবন এবং যাতায়াতের পথগুলোও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
মাদক থেকে যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে
মাদকাসক্ত প্রতিটি তরুণকে শুধু অপরাধী হিসেবে দেখলে চলবে না। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে হবে। যারা মাদক বিক্রি করে তরুণদের জীবন ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। আর যারা আসক্ত হয়ে পড়েছে, তাদের চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।
একজন তরুণের হাতে মাদক নয়, বই তুলে দিতে হবে। হাতে অপরাধের উপকরণ নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে। পরিবার, শিক্ষক, সমাজ ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, আজকের মাদকাসক্ত তরুণ আগামী দিনের একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই মাদক নির্মূলের পাশাপাশি তরুণদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও জরুরি।
প্রশাসনের প্রতি জরুরি দাবি
১. আলেকান্দা নুরিয়া স্কুলের ছাদে মাদকসেবীদের আড্ডা বসার অভিযোগ অবিলম্বে তদন্ত করতে হবে।
২. স্কুলের ছাদে প্রবেশের পথ, পাশের কাজী অফিসের ছাদ এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করতে হবে।
৩. অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মাদক সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. স্কুল কর্তৃপক্ষকে ছাদ ও ভবনের প্রবেশপথে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
৫. শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
৬. মাদকাসক্ত তরুণদের শনাক্ত করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. অভিযোগের তদন্ত ও গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে এলাকাবাসীকে অবহিত করতে হবে।
শেষ কথা: স্কুলের ছাদে মাদকের আড্ডা নয়, ফিরুক শিক্ষার পরিবেশ
বরিশালের আলেকান্দা নুরিয়া স্কুলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের আড্ডার কারণে কোনো শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা শিক্ষক যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন।
প্রশাসনের প্রতি স্পষ্ট বার্তা—মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান যেন শুধু লোকদেখানো না হয়। অপরাধের শিকড় খুঁজে বের করতে হবে। প্রভাবশালী কিংবা সাধারণ—অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না।
আইন সবার জন্য সমান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাদকমুক্ত রাখা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
আজই কার্যকর পদক্ষেপ নিন। আগামী প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ গ্রাস থেকে রক্ষা করুন। কারণ একটি তরুণের জীবন ধ্বংস হওয়া মানে একটি পরিবারের স্বপ্ন ধ্বংস হওয়া; আর একটি প্রজন্ম মাদকে হারিয়ে যাওয়া মানে দেশের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া।












