ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান, ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস

নিজস্ব সংবাদ :

মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান: ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস
নিজস্ব প্রতিবেদক | মতলব উত্তর, চাঁদপুর
মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের লক্ষ্যে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও নদীতে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ অভিযানে মেঘনা নদীর মোহনপুর, বাহেরচর, চররমুদসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথ অভিযান
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে। মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে নৌ পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।অভিযানটি নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে পরিচালনা করা হয়। সটাকী, বাবুর বাজার, নদীর পশ্চিম পাড়, বাহেরচর ও চররমুদ এলাকা অতিক্রম করে মোহনপুর পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের জনতা বাজারসংলগ্ন চারটি পয়েন্টেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে নদীতে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নৌকা নিয়ে জেলেদের পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়েও কেন থামছে না মাছ শিকার?
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া। এ সময় নদীতে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা হলে মাছের প্রজনন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে মাছ ধরা হলে প্রজনন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।মেঘনা নদী ইলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচরণক্ষেত্র। মতলব উত্তর উপজেলার নদীতীরবর্তী বহু পরিবার মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। তাই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার প্রবণতা বন্ধ করতে হলে শুধু অভিযান পরিচালনাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত জেলে পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।
জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, জেলেদের প্রতি প্রশাসনের সতর্কবার্তা
অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে মা ইলিশসহ নদীর অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণীর সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে জেলেদের প্রতি আহ্বান—সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ ধরা ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা, পরিবহন বা বিক্রির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকুন। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি
স্থানীয় নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ এবং জেলেদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাছের আড়ত, বাজার ও পরিবহনের ক্ষেত্রেও আইনসম্মত নজরদারি প্রয়োজন, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে আহরিত মাছের বেচাকেনা বন্ধ করা যায়।
মা ইলিশ রক্ষা মানে শুধু একটি মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের মৎস্যসম্পদ, জেলেদের ভবিষ্যৎ জীবিকা এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ। তাই নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা এবং আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।
মা ইলিশ বাঁচলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। নদী বাঁচলে বাঁচবে জেলেদের জীবিকা। তাই সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলুন, অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে সহযোগিতা করুন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১০:১৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান, ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস

আপডেট সময় ১০:১৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান: ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস
নিজস্ব প্রতিবেদক | মতলব উত্তর, চাঁদপুর
মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের লক্ষ্যে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও নদীতে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ অভিযানে মেঘনা নদীর মোহনপুর, বাহেরচর, চররমুদসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে যৌথ অভিযান
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে। মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে নৌ পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।অভিযানটি নদীর বিভিন্ন অংশ ঘুরে পরিচালনা করা হয়। সটাকী, বাবুর বাজার, নদীর পশ্চিম পাড়, বাহেরচর ও চররমুদ এলাকা অতিক্রম করে মোহনপুর পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের জনতা বাজারসংলগ্ন চারটি পয়েন্টেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে নদীতে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি নৌকা নিয়ে জেলেদের পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়েও কেন থামছে না মাছ শিকার?
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া। এ সময় নদীতে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা হলে মাছের প্রজনন ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে মাছ ধরা হলে প্রজনন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।মেঘনা নদী ইলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিচরণক্ষেত্র। মতলব উত্তর উপজেলার নদীতীরবর্তী বহু পরিবার মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। তাই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার প্রবণতা বন্ধ করতে হলে শুধু অভিযান পরিচালনাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত জেলে পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।
জাল পুড়িয়ে ধ্বংস, জেলেদের প্রতি প্রশাসনের সতর্কবার্তা
অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে মা ইলিশসহ নদীর অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণীর সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে জেলেদের প্রতি আহ্বান—সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ ধরা ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা, পরিবহন বা বিক্রির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকুন। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি
স্থানীয় নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ এবং জেলেদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাছের আড়ত, বাজার ও পরিবহনের ক্ষেত্রেও আইনসম্মত নজরদারি প্রয়োজন, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে আহরিত মাছের বেচাকেনা বন্ধ করা যায়।
মা ইলিশ রক্ষা মানে শুধু একটি মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের মৎস্যসম্পদ, জেলেদের ভবিষ্যৎ জীবিকা এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ। তাই নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখা এবং আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।
মা ইলিশ বাঁচলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। নদী বাঁচলে বাঁচবে জেলেদের জীবিকা। তাই সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলুন, অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে সহযোগিতা করুন।