ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞার শেষ প্রহরেও মেঘনায় মা ইলিশ শিকার! প্রশাসন-নৌ পুলিশের যৌথ অভিযান, জব্দ ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল; ইলিশ রক্ষায় কঠোর নজরদারির দাবি

নিজস্ব সংবাদ :

নিষেধাজ্ঞার শেষ প্রহরেও মেঘনায় মা ইলিশ শিকার!
প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান, ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস—তারপরও প্রশ্ন, কতটা নিরাপদ ইলিশের প্রজনন?
নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার শেষ পর্যায়ে এসেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগের মধ্যে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনভর যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে। মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
সটাকী, বাবুর বাজার, মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের বাহেরচর ও চররমুদ এলাকা হয়ে মোহনপুর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের জনতা বাজার-সংলগ্ন চারটি পয়েন্টেও অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় জাল ফেলে কিছু জেলে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।
তবে নদীজুড়ে অবৈধ মাছ শিকারের অভিযোগ এবং অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল উদ্ধারের ঘটনা মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ শিকার বন্ধ করা, নিষিদ্ধ জালের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধভাবে আহরিত মাছের বেচাকেনা ঠেকাতে কতটা কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা যাচ্ছে—এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে বাড়তি সতর্কতা
সরকার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন বাড়ানোই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবারের অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নদীর একাধিক পয়েন্টে একযোগে অভিযান পরিচালনা এবং উদ্ধার করা নিষিদ্ধ জাল প্রকাশ্যে ধ্বংস করা। এতে অবৈধ মাছ শিকারের সরঞ্জাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
তবে শুধু জাল জব্দ করেই অভিযান শেষ করলে চলবে না। জালের মালিকানা শনাক্ত করা, কোথা থেকে নিষিদ্ধ জাল সংগ্রহ করা হচ্ছে তা খুঁজে বের করা এবং একই অপরাধে বারবার জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
নদীতে অভিযান, বাজারেও কি সমান নজরদারি?
মা ইলিশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করার পাশাপাশি অবৈধভাবে আহরিত মাছের পরিবহন, মজুত ও বিক্রি ঠেকানোও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ থাকলে অবৈধ বাণিজ্যের পথও তৈরি হয়।
এ কারণে মেঘনা নদীর পাশাপাশি নদীতীরবর্তী বাজার, মাছের আড়ত, পরিবহনপথ ও সম্ভাব্য বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। কোথাও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ বিক্রির ঘটনা ঘটলে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি নৌ পুলিশের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযানসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন, কোথায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি হয়েছে।
জেলেদের জীবিকা ও ইলিশের ভবিষ্যৎ—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ
নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরতে না পারায় প্রকৃত জেলে পরিবারের আয় কমে যায়। ফলে জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা যথাসময়ে পৌঁছানো, তালিকাভুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে জীবিকার সংকটকে অজুহাত করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি প্রকৃত জেলেদের সহায়তা থেকে বঞ্চিত রাখাও কাম্য নয়। প্রশাসনিক নজরদারি ও সামাজিক সুরক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে অবৈধ মাছ শিকারের প্রবণতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মেঘনা নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎও ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আজ মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা এবং জেলেদের জীবিকা—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
শেষ তিন দিনে কার্যকর নজরদারির দাবি
নিষেধাজ্ঞার শেষ পর্যায়ে এসে মতলব উত্তর মেঘনায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চল, নদীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং মাছ কেনাবেচার সম্ভাব্য কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ধ্বংস করা একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। কিন্তু এ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার কতটা বন্ধ করা গেল, নিষেধাজ্ঞা কতটা মানা হলো এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো—তার ওপর।
মা ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; জেলে, ব্যবসায়ী, আড়তদার, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষেরও। সবাই সচেতন হলে এবং প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে মেঘনার ইলিশসম্পদ রক্ষার উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।
মেঘনা নদী বাঁচলে ইলিশ বাঁচবে, ইলিশ বাঁচলে বাঁচবে জেলেদের জীবিকা। তাই নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনগুলোতে অভিযান, নজরদারি, আইনের প্রয়োগ ও জনসচেতনতা—সবকিছুর সমন্বিত বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে জরুরী ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপডেট সময় ১১:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

নিষেধাজ্ঞার শেষ প্রহরেও মেঘনায় মা ইলিশ শিকার! প্রশাসন-নৌ পুলিশের যৌথ অভিযান, জব্দ ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল; ইলিশ রক্ষায় কঠোর নজরদারির দাবি

আপডেট সময় ১১:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

নিষেধাজ্ঞার শেষ প্রহরেও মেঘনায় মা ইলিশ শিকার!
প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান, ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস—তারপরও প্রশ্ন, কতটা নিরাপদ ইলিশের প্রজনন?
নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার শেষ পর্যায়ে এসেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগের মধ্যে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিনভর যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে। মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
সটাকী, বাবুর বাজার, মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের বাহেরচর ও চররমুদ এলাকা হয়ে মোহনপুর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের জনতা বাজার-সংলগ্ন চারটি পয়েন্টেও অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় জাল ফেলে কিছু জেলে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।
তবে নদীজুড়ে অবৈধ মাছ শিকারের অভিযোগ এবং অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল উদ্ধারের ঘটনা মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ শিকার বন্ধ করা, নিষিদ্ধ জালের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধভাবে আহরিত মাছের বেচাকেনা ঠেকাতে কতটা কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা যাচ্ছে—এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে বাড়তি সতর্কতা
সরকার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন বাড়ানোই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবারের অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নদীর একাধিক পয়েন্টে একযোগে অভিযান পরিচালনা এবং উদ্ধার করা নিষিদ্ধ জাল প্রকাশ্যে ধ্বংস করা। এতে অবৈধ মাছ শিকারের সরঞ্জাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
তবে শুধু জাল জব্দ করেই অভিযান শেষ করলে চলবে না। জালের মালিকানা শনাক্ত করা, কোথা থেকে নিষিদ্ধ জাল সংগ্রহ করা হচ্ছে তা খুঁজে বের করা এবং একই অপরাধে বারবার জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
নদীতে অভিযান, বাজারেও কি সমান নজরদারি?
মা ইলিশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করার পাশাপাশি অবৈধভাবে আহরিত মাছের পরিবহন, মজুত ও বিক্রি ঠেকানোও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নদীতে মাছ শিকারের সুযোগ থাকলে অবৈধ বাণিজ্যের পথও তৈরি হয়।
এ কারণে মেঘনা নদীর পাশাপাশি নদীতীরবর্তী বাজার, মাছের আড়ত, পরিবহনপথ ও সম্ভাব্য বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। কোথাও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ বিক্রির ঘটনা ঘটলে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি নৌ পুলিশের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযানসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন, কোথায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি হয়েছে।
জেলেদের জীবিকা ও ইলিশের ভবিষ্যৎ—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ
নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরতে না পারায় প্রকৃত জেলে পরিবারের আয় কমে যায়। ফলে জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা যথাসময়ে পৌঁছানো, তালিকাভুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরিও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে জীবিকার সংকটকে অজুহাত করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি প্রকৃত জেলেদের সহায়তা থেকে বঞ্চিত রাখাও কাম্য নয়। প্রশাসনিক নজরদারি ও সামাজিক সুরক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে অবৈধ মাছ শিকারের প্রবণতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মেঘনা নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎও ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আজ মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা এবং জেলেদের জীবিকা—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
শেষ তিন দিনে কার্যকর নজরদারির দাবি
নিষেধাজ্ঞার শেষ পর্যায়ে এসে মতলব উত্তর মেঘনায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুর্গম চরাঞ্চল, নদীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং মাছ কেনাবেচার সম্ভাব্য কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৩০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ধ্বংস করা একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। কিন্তু এ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নদীতে অবৈধ মাছ শিকার কতটা বন্ধ করা গেল, নিষেধাজ্ঞা কতটা মানা হলো এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো—তার ওপর।
মা ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; জেলে, ব্যবসায়ী, আড়তদার, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষেরও। সবাই সচেতন হলে এবং প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে মেঘনার ইলিশসম্পদ রক্ষার উদ্যোগ আরও কার্যকর হতে পারে।
মেঘনা নদী বাঁচলে ইলিশ বাঁচবে, ইলিশ বাঁচলে বাঁচবে জেলেদের জীবিকা। তাই নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনগুলোতে অভিযান, নজরদারি, আইনের প্রয়োগ ও জনসচেতনতা—সবকিছুর সমন্বিত বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে জরুরী ।